ই-মেইল এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—অফিসের কাজ, ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সবকিছুর সঙ্গেই এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আর ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। অনলাইন প্রতারণার সবচেয়ে পরিচিত ও বিপজ্জনক কৌশলগুলোর একটি হলো ফিশিং মেইল। দেখতে একেবারে আসল ই-মেইলের মতো হলেও, একটি ভুল ক্লিকেই হারাতে পারেন টাকা, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা পুরো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ। তাই আগে থেকেই ফিশিং মেইল চিনে রাখা ভীষণ জরুরি।

ফিশিং মেইল কী?
ফিশিং মেইল হলো ভুয়া ই-মেইল, যা ব্যাংক, পরিচিত প্রতিষ্ঠান, অফিস বা জনপ্রিয় অনলাইন সার্ভিসের নাম ব্যবহার করে পাঠানো হয়। এর মূল লক্ষ্য একটাই—ব্যবহারকারীকে ভুল বুঝিয়ে তার কাছ থেকে পাসওয়ার্ড, ওটিপি, কার্ড নম্বর বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।
প্রতিটি ই-মেইল অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে কয়েক মুহূর্ত যাচাই করাই হতে পারে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফিশিং মেইল শনাক্ত করার কয়েকটি কার্যকর কৌশল—
১. অচেনা বা সন্দেহজনক প্রেরক
ই-মেইলের প্রেরকের ঠিকানাই প্রথম সতর্ক সংকেত। নামের জায়গায় পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও, পুরো ই-মেইল ঠিকানাটি ভালো করে দেখুন। যেমন—support@bank-secure123.com দেখতে বিশ্বাসযোগ্য লাগলেও আসল ব্যাংকের ডোমেইন সাধারণত হয় @bankname.com।
২. ভয় বা তাড়াহুড়ার চাপ
ফিশিং মেইলে প্রায়ই আতঙ্ক ছড়ানো হয়—“আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে”, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য আপডেট না করলে সমস্যা হবে”, “সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়েছে”—এ ধরনের বার্তা দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়।
৩. বানান ও ভাষাগত ভুল
অনেক ভুয়া ই-মেইলে বানান, ব্যাকরণ বা বাক্য গঠনে অসংগতি থাকে। বড় ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান সাধারণত এমন ভুলভাল ভাষায় ই-মেইল পাঠায় না।
৪. সন্দেহজনক লিংক
ই-মেইলের ভেতরের লিংকে ক্লিক না করে মাউস রেখে দেখুন—আসল লিংক কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় লেখা একরকম হলেও লিংকটি ভিন্ন ও অচেনা ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়।
উদাহরণ: লেখা—www.facebook.com, কিন্তু লিংক—www.faceb00k-login.net
৫. ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া
কোনো ব্যাংক বা অনলাইন সার্ভিস কখনোই ই-মেইলে পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি বা কার্ডের তথ্য চায় না। এমন অনুরোধ থাকলে নিশ্চিতভাবে সেটি ফিশিং মেইল।
৬. অপ্রত্যাশিত অ্যাটাচমেন্ট
অচেনা ই-মেইলের সঙ্গে আসা পিডিএফ, জিপ বা এক্সিকিউটেবল ফাইল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব ফাইল খুললেই ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ঢুকে যেতে পারে।
৭. লোভনীয় পুরস্কার বা অফার
“আপনি লটারি জিতেছেন”, “ফ্রি গিফট”, “বিশেষ ছাড়”—এ ধরনের লোভ দেখানো বার্তাও ফিশিংয়ের বহুল ব্যবহৃত কৌশল। বাস্তবে অংশগ্রহণ ছাড়া এমন পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ নেই।
ফিশিং মেইল পেলে কী করবেন?
-কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না
-কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না
-ই-মেইলটি স্প্যাম বা ফিশিং হিসেবে রিপোর্ট করুন
-প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজে যাচাই করুন
-নিরাপদ থাকার সহজ অভ্যাস
-টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (২ ধাপের নিরাপত্তা) চালু রাখুন
-নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন
-সন্দেহ হলে আগে যাচাই করুন, তাড়াহুড়া করবেন না
-অ্যান্টিভাইরাস ও ব্রাউজার সব সময় আপডেট রাখুন
সচেতন থাকলেই অনলাইন প্রতারণা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন—একটি বাড়তি সতর্কতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


