চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই মুমূর্ষু রোগীদের লক্ষ্য করে উৎপাদিত ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করছেন অনেকে। বিশেষ করে শরীর চর্চার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেরই দৈনন্দিন রুটিনে জায়গা করে নিচ্ছে এই সাপ্লিমেন্ট।

Food

Advertisement

যা মাত্রাতিরিক্ত সেবন কঠিন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত ফুড সাপ্লিমেন্ট।

কোথাও নিউট্র্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট, কোথাও স্পোর্টস সাপ্লিমেন্টের প্রচলন বেশি। তবে দাপ্তরিক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ স্থানেই ‘ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়।খতে ওষুধের মতোই, ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল আকারে বাজারজাত করা হয়। কিছু সাপ্লিমেন্ট গুড়া দুধ বা পাওডারের মতো করে টিনের কৌটায় বাজারজাত করা হয়।

ফিটনেসপ্রেমীদের কাছে এ ধরনের সাপ্লিমেন্টের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কেন্দ্র করে দেশে গড়ে উঠেছে এক বিশাল অনিয়ন্ত্রিত বাজার।

ঢাকার নর্দায় একটি বেসরকারি ফিটনেস সেন্টার পরিচালনা করেন হাসিবুর রহমান শান্ত। তিনি বলেন, আমরা কখনওই ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকে সমর্থন করি না। তারপরও অনেক সময় জানতে পারি শরীর চর্চা করতে আসা কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, কেবল শহরে নয়, মফস্বলেও ফুড সাপ্লিমেন্ট এখন সহজলভ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। এভাবে হরেদরে ফুড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, ফুড সাপ্লিমেন্ট কোনোভাবেই সাধারণ খাবারের বিকল্প নয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে বা বন্ধুর পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন, কিন্তু শরীরে কোনো উপাদানের ঘাটতি আছে কি না তা পরীক্ষা না করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো গ্রহণ করা জীবনঘাতী হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা বলছেন, অতিরিক্ত বা ভুল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে কিডনি বিকল হওয়া, লিভার টক্সিসিটি বা বিষক্রিয়া, হরমোনজনিত সমস্যা এবং ধমনীতে প্লাক জমে হৃদরোগের ঝুঁকির মতো নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সাধারণত খাবার খাই শরীরের ক্ষয় পূরণ, প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি এবং সুস্থতার জন্য। ফুড সাপ্লিমেন্ট খাবারের সাথে যুক্ত হয়ে শরীর গঠনে, রোগ প্রতিরোধে আমাদেরকে সহায়তা করে। তবে সেটা পরিমাণ মতো খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত দিনের পর দিন ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়াটা হিতে বিপরীত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধরুন কেউ একজন দিনের পর দিন ক্যালসিয়াম খাচ্ছে, তার শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে তার কিডনিতে পাথর তৈরি করবে, তার শরীরের একটা অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে, অথবা হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে। এছাড়াও অনেক ধরণের বড় ধরণের শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। ফুড সাপ্লিমেন্টের আধিক্য হয়ে গেলে সেটা মানুষের শরীরে ক্ষতি করবে। চিকিৎসক কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের পরামর্শ ব্যতীত দিনের পর দিন ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়া সুস্থতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

দেশে ফুড সাপ্লিমেন্টের বাজার কত বড়
ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিটামিন ও হারবাল জাতীয় সাপ্লিমেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে ভিটামিন ডি-সহ বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতিজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা বেশি।

তবে এ বিষয়ে দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের বাজারে ভিটামিন (সি, ডি, বি-কমপ্লেক্স), মিনারেল (ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক), প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড, হারবাল ও বোটানিকাল সাপ্লিমেন্ট এবং মেডিকেল নিউট্রিশন পণ্যসহ নানা ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ছোট খুচরা দোকানগুলোতেও অনেক ধরনের সাপ্লিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে, যেগুলোর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য।

আন্তর্জাতিক মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশে শুধু অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০২৫ সালে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এটি মোট বাজারের ছোট একটি অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, অফলাইন বিক্রি, ফার্মেসি, জিমভিত্তিক দোকান এবং অনানুষ্ঠানিক আমদানির তথ্য যুক্ত করলে দেশের ফুড সাপ্লিমেন্ট বাজার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় সাপ্লিমেন্ট। পাশাপাশি হারবাল পণ্য, প্রোটিন পাউডার, অ্যামিনো অ্যাসিড, ওমেগা-৩ ও প্রোবায়োটিকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিম ও ফিটনেসকেন্দ্রিক তরুণদের মধ্যে প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার বেশি। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা প্রশমনের জন্য ভিটামিন ও অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।

দেশে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। এর বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইনফ্লুয়েন্সাররা।

ঢাকার বিভিন্ন ফার্মেসি ও অনলাইন সাইটে প্রধানত তিন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট বেশি দেখতে পাওয়া যায়। এগুলো হলো ভিটামিন ও মিনারেল যেমন,মাল্টি-ভিটামিন, ভিটামিন-সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট; ক্রিয়েটিন এবং বিসিএএ-র মতো প্রোটিন ও জিম সাপ্লিমেন্ট এবং ওমেগা-থ্রি ফিশ অয়েল, কোলাজেন, অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও মেদ কমানোর বিভিন্ন হার্বাল ক্যাপসুলের মতো ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট।

আন্তর্জাতিক এক বাজার সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ১৭৮ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজার রয়েছে নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্টের। বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে বাড়ছে এই বাজার।

সাপ্লিমেন্ট সরবরাহের আইনি কাঠামো
গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খুলতে ব্যাংকগুলোকে নিষেধ করে দেয়।

এর আগে ২১ এপ্রিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টসহ কয়েক ধরনের সাপ্লিমেন্ট আমদানির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরে।

চিঠিতে বলা হয়, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট, হারবাল সাপ্লিমেন্ট, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট, মেডিকেল নিউট্রিশন থেরাপিউটিক নিউট্রিশন এবং সম্পূরক পথ্যজাতীয় পণের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিবন্ধন অথবা পূর্বানুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অনুমোদন ছাড়াই কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারে প্রচলিত ফুড সাপ্লিমেন্টের একটি বড় অংশই অবৈধ পথে দেশে আসছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে ‘লাগেজ পার্টি’র মাধ্যমে বা মিথ্যা ঘোষণায় এসব পণ্য আনা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সাম্প্রতিক অভিযানে ‘বার্ড ফুড’ বা পাখির খাবার ঘোষণা দিয়ে ক্ষতিকর ড্রাগ ও উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট আমদানির প্রমাণ পাওয়া যায়। আমদানি করা এসব পণ্যের গায়ে অনেক সময় বিএসটিআই বা ডিজিডিএ-র অনুমোদন থাকে না, ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না তারা আসল পণ্য কিনছেন নাকি ভেজাল কোনো রাসায়নিক মিশ্রিত পাউডার কিনছেন।

বাংলাদেশে ফুড সাপ্লিমেন্ট নিয়ন্ত্রণে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর মাধ্যমে এই খাতকে আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কাজ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

দেশে ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানি ও বাজারজাত করতে হলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তদারকির সীমাবদ্ধতার কারণে এই পণ্যটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এছাড়া স্বাস্থ্য সাপ্লিমেন্ট সংক্রান্ত আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে এই খাতের নিবন্ধন, উৎপাদন ও বিপণনে আরও স্বচ্ছতা আসে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব (ঔষধ প্রশাসন ১ ও নীতি শাখ) মো. কায়সার রহমান বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক বিষয়গুলো দেখভাল করি। এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট আমদানির অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুড সাপ্লিমেন্ট কখনোই স্বাভাবিক খাদ্যের বিকল্প নয় এবং প্রয়োজন ছাড়া এসব গ্রহণ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ডোজ, ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। অনেক হারবাল সাপ্লিমেন্টে অজানা রাসায়নিক বা স্টেরয়েড জাতীয় উপাদান থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ন্যাচারাল বা হারবাল লেখা থাকলেই তা নিরাপদ এমন ধারণাও ভুল।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস (বিআইএইচএস) জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের প্রধান এবং সিনিয়র পুষ্টিবিদ শারমিন আক্তার বলেন, ফুড সাপ্লিমেন্ট কোনো পুষ্টিবিদ কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একদমই গ্রহণ করা উচিৎ না। আমাদের ন্যাচারাল ফুড যেগুলো আছে, সেগুলোকে কি ফুড হিসেবে নেওয়া যায় না, কেনো সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে?

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় অসুস্থ লোক, যে প্রয়োজনীয় সাধারণ খাবার খেতে পারছে না, নিউট্রিয়েন্ট ডেফিসিয়েন্সি থেকে যাচ্ছে, তখন আমরা তাকে ফুড সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকি। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, যে স্বাভাবিক খাবার খেতে পারে, তাকে কেনও বাড়তি ফুড সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। আমরা ন্যাচারাল সব কিছু ছেড়ে সিনথেটিক ফরমে চলে যাচ্ছি, এটা হওয়া উচিৎ না। এজন্যেই আমাদের রোগ-বালাইয়ের হার বেড়ে গেছে। বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, এগুলো হচ্ছে ব্যবসায়ীক চিন্তা ভাবনা, যার যার পকেট ভারি করার কৌশল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ইউটিউব ডাক্তার, ফেসবুক ডাক্তার, ইউটিউব-ফেসবুক-অনলাইন ডায়েটিশানে ছেয়ে গেছে। একজন মানুষের বিভিন্ন পরীক্ষার নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে, লাইফ স্টাইল দেখে, একজন ব্যক্তির ডায়েট নির্ধারণ করতে হয়, এটা আবার ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তিতে পরিবর্তিত হয়। এসব ছাড়া ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়া একেবারেই ঠিক না।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এভিক্স ফার্মাসিটিক্যাল লি. ইউকে- এর বিজনেস অ্যান্ড এইচআর উপদেষ্টা নৃপেন চৌধুরী বলেন, ফুড সাপ্লিমেন্ট মানে খারাপ কিছু নয়। তবে এর যত্রতত্র ব্যবহার সাপ্লিমেন্টের সত্যিকারে বৈজ্ঞানিক ধারনা নষ্ট করছে। ডাক্তারের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার অনেক ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে। মানবদেহের অনেক ধরনের পুষ্ঠিজনিত সমস্যা দূর করা বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টের বেশ কার্যকর ভূমিকাও রয়েছে।

সূত্র : বাংলানিউজ

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.