আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস পশ্চিমবঙ্গ বলে দাবি করেছে ভারত। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভিত্তিহীন এ দাবি করা হয়েছে। তবে দেশটির এই অদ্ভূত দাবি ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

টাঙ্গাইলের শাড়ি

Advertisement

টাঙ্গাইল শাড়ির একটি সুদীর্ঘ ঐতিহ্য ও ইতিহাস রয়েছে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো একটি কুটির শিল্প। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই শাড়ি বুননের ইতিহাস। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এর ব্যাপক প্রসার হয়।

বাংলাদেশের অনেক তাঁতি সম্প্রদায় টাঙ্গাইল শাড়ির বুননকর্মে জড়িত। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো তাঁতি সম্প্রদায় হলো টাঙ্গাইলের পাথরাইলের বসাক সম্প্রদায়। বাংলাদেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প মসলিন। এই মসলিন তাঁতিদের বংশধররাই মূলত টাঙ্গাইলের পুরনো তাঁতি বা কারিগর।

এছাড়া নাম থেকেই স্পষ্ট টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপত্তি কোথায়। তবে এ কথা সত্য যে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কিছু তাঁতি বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছিলেন। তারাই সেখানে টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি শুরু করেন। কিন্তু শাড়ির নাম সেই টাঙ্গাইলই রয়ে গেছে। শাড়ির এই ইতিহাস তুলে ধরেছে খোদ ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এখন একে ঢালাওভাবে পশ্চিমবঙ্গের বলে দাবি করা হয়েছে। বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির উৎস বাংলাদেশ হলেও সম্প্রতি এর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই স্বত্ব) বাগিয়ে নিয়েছে ভারতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এরপরবৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, হাতেবোনা ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উদ্ভূত।

তবে ফেসবুকে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এমন দাবি সম্বলিত পোস্ট নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই এর সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পোস্টটি প্রকাশ করার পর এতে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মন্তব্য পড়েছে। এর প্রায় সবই ভারতীয় দাবির প্রতিবাদ ও সমালোচনা করে।

টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গ দাবি করে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত স্ট্যাটিক

বেশিরভাগ মন্তব্যে বলা হয়েছে, শাড়টির নাম টাঙ্গাইল। আর সেই টাঙ্গাইলের অবস্থান বাংলাদেশে। এখানেই টাঙ্গাইল শাড়ির জন্মস্থান, পশ্চিমবঙ্গে নয়। এছাড়া আরও অনেকেই এই দাবিকে ‘অদ্ভূত ও হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।

এক পোস্টে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল শাড়ি আমাদের ঐতিহ্য। এটাকে আপনাদের (ভারতের) নিজেদের নামে ব্যাবহার করে অন্যায় করছেন। আশা করি আপনারা এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে অতি শিগগিরই সরে আসবেন।

অপর একজন লিখেছেন, এটা সত্যিই হতাশাজনক যে তারা এমনটা দাবি করছে। তিনি আরও বলেন, ১৯০৬ সালে মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডের ল্যাঞ্চাশায়ারের তৈরি কাপড় বর্জন। সেই ডাকে আপামর জনসাধারণের সাড়া দেওয়ায় সেই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) তাঁত শিল্প প্রসার লাভ করে। তার মানে এই নয় যে, টাঙ্গাইল শাড়ি পশ্চিমবঙ্গের।

তিনি আরও বলেন, ‘টাঙ্গাইল শাড়ির ইতিহাস প্রাচীন। এই তাঁতিরা ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন তাঁতশিল্পীদের বংশধর। তাদের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার ধামরাই ও চৌহাট্টায়। তৎকালীন সময়ে দেলদুয়ার, সন্তোষ ও ঘ্রিন্দা এলাকার জমিদারদের আমন্ত্রণে তাঁতিরা টাঙ্গাইল যান এবং পরবর্তীতে সেখানে বসবাস শুরু করেন। অবিভক্ত ময়মনসিংহের মহকুমা টাঙ্গাইলের নামানুসারে এই শাড়ি টাঙ্গাইল শাড়ি পরিচিতি লাভ করে। টাঙ্গাইল শাড়ি কোনোভাবেই পশ্চিমবঙ্গের নয়।’

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.