স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে। যোগাযোগ, বিনোদন, তথ্যপ্রাপ্তি—সবকিছুই এখন সহজেই হাতের নাগালে। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় প্রযুক্তির এই বিস্তারের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হ্রাসের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে চমকপ্রদ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার, বিশেষ করে আইফোনের বিস্তার, এবং জন্মহারের পতনের মধ্যে একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গত প্রায় দুই দশক ধরে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে, আর এর পেছনে স্মার্টফোনের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দম্পতিদের মধ্যে একসঙ্গে সময় কাটানোর বদলে ফোনে ব্যস্ত থাকার প্রবণতা বাড়ছে, যা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিইআর) একটি গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে জন্মহার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে ২০০৭ সালের পর থেকে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করে, বর্তমানে যা প্রায় ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেন, আইফোনের প্রাথমিক বিস্তার নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক কাভারেজের ওপর নির্ভর করায় বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যবহার ভিন্ন ছিল। যেখানে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ছিল, সেখানে কিশোরী জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি হ্রাস পেয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে গবেষকরা সরাসরি আইফোনকে এককভাবে দায়ী করছেন না। তাদের মতে, স্মার্টফোন মানুষের আচরণ ও জীবনধারায় বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন বেশি সময় ভার্চুয়াল জগতে ব্যয় করছে, যার ফলে বাস্তব সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনলাইন বিনোদন ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টে সহজ প্রবেশাধিকারও সামাজিক আচরণে পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সহজলভ্য হওয়ায় অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গবেষণাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে জন্মহার হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও এতে অর্থনীতি, নীতি, ধর্ম ও সামাজিক কাঠামোর মতো একাধিক বিষয়ও প্রভাব ফেলছে।
সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগের তুলনায় মানুষ সরাসরি বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে এখন বেশি সময় ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যয় করছে, যা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ধরনকেও পরিবর্তন করছে বলে গবেষকদের মত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন একমাত্র কারণ না হলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



