আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এই হাটের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির এক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘সম্রাট’। কুচকুচে কালো রঙের এই গরুটির মাথা ও শরীরের নিচের অংশে সাদা ছাপ রয়েছে। সুঠাম দেহগঠন ও বিশাল আকারের কারণে এটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেডে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এই ষাঁড়টিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্রাটের বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি, অর্থাৎ এক টনেরও বেশি। এবারের কোরবানির বাজারে এর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।
খামারের কর্মচারী মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্মের পর থেকেই গরুটিকে আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে এটি লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু খাবার ও পরিচর্যায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য ব্যয় হচ্ছে।
সম্রাটের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়-ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া ও চালের ভাত। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা হয় গরুটিকে।
খামারের আরেক কর্মচারী জুলহাস মিয়া বলেন, গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো যত্নে বড় করা হয়েছে। ফলে সম্রাট এখন শুধু একটি পশু নয়, খামারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
শুধু সম্রাটই নয়, এই খামারে এবারের ঈদুল আজহাকে ঘিরে আরও ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল এবং কয়েকটি গাড়ল প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে সাতজন কর্মচারী দিন-রাত পশুগুলোর দেখভাল করছেন।
খামারের জেনারেল ম্যানেজার জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। কয়েকটি গরুর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজির মধ্যে হলেও সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সম্রাট। খামার থেকে পশু বিক্রি করা হলেও মূল বিক্রয় কেন্দ্র চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ীতে অবস্থিত।
খাগড়াছড়ি প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন হওয়ায় এখানকার গরুর মাংসের মান তুলনামূলকভাবে ভালো এবং চর্বি কম।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের গরু মূলত কাঁচা ঘাস ও খড় খেয়ে বড় হয় এবং এতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না, ফলে এখানকার মাংস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘সম্রাট’কে এক নজর দেখার জন্য খামারে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এখন সবার আগ্রহ—শেষ পর্যন্ত কে হবেন এই রাজকীয় ষাঁড়ের নতুন মালিক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


