মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য একটি অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে বের করা, খাবার হজমে সহায়তা করা এবং প্রয়োজনীয় নানা উপাদান তৈরি করাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রতিনিয়ত সম্পাদন করে এই অঙ্গটি। সাধারণত সুস্থ লিভার কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই কাজ চালিয়ে যায়। তবে লিভারে ক্ষতি শুরু হলেও প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে শরীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
লিভার সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি লক্ষণ
১. **জন্ডিস**
ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া লিভার সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
২. **পেটে ব্যথা বা ফোলাভাব**
পেট ভারী লাগা, ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
৩. **সহজে কালশিটে পড়ে যাওয়া**
অল্প আঘাতেই শরীরে দাগ বা কালশিটে পড়ে যেতে পারে।
৪. **ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি**
কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি হতে পারে।
৫. **পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া**
বিশেষ করে শরীরের নিচের অংশে পানি জমে ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. **হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া**
কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যেতে পারে।
৭. **ক্ষুধামন্দা**
খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়া বা ক্ষুধা কমে যাওয়া।
৮. **বমি বমি ভাব বা বমি**
ঘন ঘন বমি বমি লাগা কিংবা বমি হওয়া।
৯. **অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি**
সবসময় ক্লান্ত লাগা বা শক্তিহীন অনুভব করা।
১০. **মলের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া**
মলের রঙ সাদা বা চকের মতো হয়ে যেতে পারে।
১১. **রক্তচাপ কমে যাওয়া**
স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
১২. **বিভ্রান্তি ও ভারসাম্যহীনতা**
মনোযোগ কমে যাওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি বা চলাফেরায় ভারসাম্য হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
১৩. **শরীরে কাঁপুনি**
হাত-পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কাঁপুনি অনুভূত হতে পারে।
কেন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
লিভারের সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ভাইরাল হেপাটাইটিস (এ, বি ও সি), সিরোসিস এবং বর্তমানে বহুল পরিচিত ফ্যাটি লিভার রোগ এর মধ্যে অন্যতম। অতিরিক্ত মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা কিংবা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া লিভার ক্যান্সার ও লিভার ফেইলিউরের মতো গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
কীভাবে লিভারের সমস্যা শনাক্ত করা হয়?
লিভারের অবস্থা বুঝতে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা বায়োপসির মাধ্যমেও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
লিভার সুস্থ রাখার উপায়
* অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন
* ধূমপান ও মাদক সেবন এড়িয়ে চলুন
* নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করুন
* অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা রেজর ব্যবহার করবেন না
* চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভিটামিন গ্রহণ করবেন না
* স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন
* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
শরীরে এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



