শিশুদের মধ্যে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অনেকেই একে সাধারণ জ্বর বা ত্বকের সাধারণ ফুসকুড়ি মনে করলেও, বাস্তবে এটি শিশুর শরীরে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, অপুষ্টিতে ভোগে বা যাদের পূর্ণ টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

হামের ক্ষেত্রে শিশুর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক সময় খাওয়ায় অনীহা, দুর্বলতা ও অস্বস্তিও দেখা দেয়। এ সময়ে সঠিক যত্ন শিশুকে দ্রুত সুস্থ করতে সাহায্য করে, আবার অবহেলা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হামের ক্ষেত্রে কেন বাড়তি যত্ন প্রয়োজন
হামের ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক অভিভাবক শুধু জ্বর কমানোর দিকেই মনোযোগ দেন, কিন্তু এ সময়ে শিশুর পুষ্টি, বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা এবং পানিশূন্যতা রোধ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাম আক্রান্ত শিশুর যত্ন কীভাবে নেবেন
শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন: হাম হলে শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তাকে শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দিন। অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ বা ক্লান্তিকর কাজ থেকে বিরত রাখুন।
পর্যাপ্ত তরল খাবার দিন: জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই বারবার পানি, ডাবের পানি, স্যুপ, লেবুর শরবতসহ তরল খাবার দিন। শিশুটি যদি বুকের দুধ পান করে, তবে তা ঘন ঘন খাওয়ান।
পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন: অনেক শিশুর খেতে অনীহা থাকে, তবুও অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। নরম ভাত, খিচুড়ি, ডিম, সবজি, ফলমূল ও স্যুপ উপকারী। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার বিশেষভাবে সহায়ক।
চোখের যত্ন নিন: হামের সময় চোখ লাল হয়ে যেতে পারে এবং আলোতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ঘরের আলো কিছুটা কমিয়ে রাখুন এবং পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে চোখ আলতোভাবে মুছে দিন।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: শিশুর কাপড়, বিছানা ও ব্যবহার্য জিনিস নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। হাত ধোয়ার অভ্যাস নিশ্চিত করুন, এতে অতিরিক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলা উচিত
-চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ নিজের ইচ্ছেমতো দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
-শিশুকে না খাইয়ে রাখা ঠিক নয়। হামের সময় শরীর সুস্থ হতে পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
-পানি কম খাওয়ানো উচিত নয়, কারণ এতে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
-ফুসকুড়িতে তেল, মলম বা ভেষজ কিছু লাগানো থেকে বিরত থাকুন, এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে।
-আক্রান্ত শিশুকে জনসমাগমে নেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন
শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত নিস্তেজতা, খেতে না পারা, তীব্র ডায়রিয়া, উচ্চ জ্বর বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দিলে এই রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক টিকাদান সম্পর্কে সচেতন থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ শিশুই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে কোনো জটিল লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



