মহাকাশের গভীরে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাওয়া রহস্যময় নীল আলোর ঝলকের পেছনে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় এক দশক ধরে এই অদ্ভুত আলোর উৎস সম্পর্কে গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই বিরল ঘটনা সম্ভবত কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারার সঙ্গে এক বিশেষ ধরনের বিশাল নক্ষত্রের সহিংস সংঘর্ষের ফল। এই ঘটনাকে ‘লুমিনাস ফাস্ট ব্লু অপটিক্যাল ট্রানজিয়েন্ট’ (এলএফবিওটি) নামে চিহ্নিত করা হয়।

এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪টি এমন ঘটনা শনাক্ত করা গেছে, যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিরল বিস্ফোরণগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারণ মহাজাগতিক বিস্ফোরণের তুলনায় এগুলো অনেক দ্রুত ঘটে এবং প্রায় ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছে দ্রুত মিলিয়ে যায়, যেখানে অন্যান্য বিস্ফোরণ সপ্তাহ বা মাসজুড়ে স্থায়ী থাকে।
হার্ভার্ড ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গবেষক ড. আনিয়া নিউগেন্ট জানান, এই আলোগুলো সবসময় নীল রঙের হয়, যা ইঙ্গিত করে এগুলো অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় সৃষ্টি হয়।
গবেষকরা যেসব ছায়াপথে এই ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর গঠন, নক্ষত্র সৃষ্টির হার এবং ধাতব উপাদান বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের মতে, ‘উলফ-রায়েট’ নামে পরিচিত হাইড্রোজেনবিহীন বিশাল নক্ষত্রের সঙ্গে কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারার সংঘর্ষেই এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে একটি বিশাল নক্ষত্র ধসে পড়ে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বর বা নিউট্রন তারায় পরিণত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সেই ঘন বস্তুটি সঙ্গী নক্ষত্রের ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় শক্তি মুক্ত করে। এর ফলে তীব্র গ্যাসপ্রবাহ ও জেট তৈরি হয়, যা আশপাশের পদার্থে আঘাত করে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও উত্তপ্ত নীল আলো সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় ঘটনার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে এই তত্ত্ব নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



