ইন্টারনেট সেবার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতা এখন পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য নতুন এক বড় হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রকেট উৎক্ষেপণের সময় নির্গত কালো ধোঁয়া ও কার্বন কণা বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইলন মাস্কের SpaceX-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মহাকাশে বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে। এই ‘মেগাকনস্টেলেশন’ তৈরির প্রতিযোগিতা থেকে নানা ধরনের পরিবেশগত ও মহাকাশ-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে The Independent।
বিজ্ঞানীরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত স্যাটেলাইটের কারণে মহাকাশে জটলা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং মহাকাশকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তুলতে পারে।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, রকেট উৎক্ষেপণের সময় নির্গত ‘ব্ল্যাক কার্বন’ বা কালো কার্বন কণা বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে দীর্ঘস্থায়ী দূষণ সৃষ্টি করে। গবেষকদের মতে, এই কণার পরিবেশগত ক্ষতিকর প্রভাব মাটির স্তরের দূষণের তুলনায় অনেক গুণ বেশি।
তবে বিজ্ঞানীরা এটিও উল্লেখ করেছেন যে, এই কালো কণা সূর্যালোক কিছুটা প্রতিফলিত করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে, যা আংশিকভাবে জিওইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কাজ করে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অনিশ্চিত এবং সম্ভাব্যভাবে ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইলোইস মারাইস বলেন, মহাকাশ শিল্পের এই দূষণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন জিওইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার মতো, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এর প্রভাব সীমিত থাকলেও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং অ্যান্ড ওজোন ডিপলেশন অফ আ ডেকেড অফ স্যাটেলাইট মেগাকনস্টেলেশন মিশনস’ শীর্ষক এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল Earth Futures-এ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



