ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) মঙ্গলগ্রহের পৃষ্ঠে ঘূর্ণায়মান ধুলিঝড় বা ‘ডাস্ট ডেভিল’-এর চমৎকার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। এসব ছবি ধারণ করা হয়েছে মার্স এক্সপ্রেস মহাকাশযানের মাধ্যমে, যা ২০০৩ সাল থেকে লাল গ্রহটি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

ছবিগুলো তোলা হয়েছে মঙ্গলগ্রহের উত্তরাঞ্চলের বিশাল ক্যানিয়ন এলাকা মামার্স ভ্যালেসে। উচ্চ রেজোলিউশন স্টেরিও ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে অন্তত ৩০টি সক্রিয় ধুলিঝড় ঘূর্ণায়মান অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিতে এগুলো ছোট হলুদ বিন্দুর মতো দেখালেও এর পেছনে গোলাপি ধুলোর দীর্ঘ রেখা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মঙ্গলপৃষ্ঠ সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হলে নিচের স্তরের গরম বাতাস দ্রুত উপরে উঠে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ধুলা ঘুরতে ঘুরতে একটি ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করে, যাকে ডাস্ট ডেভিল বলা হয়।
পৃথিবীর মরুভূমিতে দেখা ধুলিঝড়ের মতো হলেও মঙ্গলের এসব ঘূর্ণিঝড় অনেক বড় আকারের হতে পারে। এগুলো প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে। কিছু ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা আগের ধারণার চেয়েও বেশি।
মামার্স ভ্যালেস অঞ্চলটি প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রাচীন ক্যানিয়ন, যার বয়স আনুমানিক ৩.৮ বিলিয়ন বছর। এটি মঙ্গলগ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
ESA জানিয়েছে, এর আগেও ২০০৮ ও ২০১৯ সালে এই অঞ্চলের ছবি তোলা হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি সক্রিয় ডাস্ট ডেভিল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় মঙ্গলগ্রহের আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



