Advertisement

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম।

Meghna General Hospital

লাইসেন্সবিহীন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, লিখিত অভিযোগ ছাড়া তাঁর কিছু করার নেই। তিনি জানান, “রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ‘মেঘনা জেনারেল হাসপাতাল’-এ সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে লাইসেন্স নবায়ন করা এ হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃত নবজাতকের স্বজনরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দাবি করেছেন, শিশুটির গলায় নাড়ি (আম্বিলিক্যাল কর্ড) পেঁচানো থাকায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত নবজাতকের মা মুন্নি আক্তার (২০) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শানবান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তাঁর স্বামী টিপু সুলতান প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই মুন্নি আক্তার মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রুমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। নিয়মিত চেকআপের অংশ হিসেবে গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। ওই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসক নির্দিষ্ট দিনে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুন্নি আক্তারকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার মেঘনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের দাবি, বেলা দেড়টার দিকে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক রুমা আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর চিকিৎসক জানান, নবজাতকটি মৃত।

মৃত নবজাতকের চাচা আমিনুর ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়নি। ইসিজি, রক্তচাপসহ প্রয়োজনীয় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়নি। চিকিৎসক এসে দ্রুত অপারেশন শুরু করেন। পরে জানানো হয়, বাচ্চাটি মারা গেছে। আমরা এটিকে চিকিৎসকের চরম অবহেলা মনে করছি।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গাইনি চিকিৎসক রুমা আক্তার বলেন, “মুন্নি আক্তার আমার নিয়মিত ফলোআপে ছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারির আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখেই সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় দেখা যায়, শিশুটির গলায় নাড়ি পেঁচানো ছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু নাড়ি পেঁচিয়ে থাকায় শিশুটি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।”

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নিহত নবজাতকের স্বজনরা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে গাইনি চিকিৎসক রুমা আক্তারের মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের সরকারি ডিউটি চলাকালীন তিনি দায়িত্বে উপস্থিত না থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর দায়িত্ববোধ ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক রুমা আক্তার তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় আমাদের নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় ডিউটি পালন করতে হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগী না থাকায় আমি নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে এসেছি। বেসরকারি হাসপাতালে দুপুর দুইটার দিকে অপারেশন শুরু করেছি। বিষয়টি ডিউটি ফাঁকির মধ্যে পড়ে না।”

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google