Advertisement

সাইফুল ইসলাম : বাংলাদেশে ধর্ষণের শিকার নারীর নাম, ঠিকানা, ছবি বা পরিবারের সদস্যদের পরিচয় গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ধর্ষণের শিকার এক নারীর নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ।

Manikganj

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ “জেলা পুলিশ, মানিকগঞ্জ।। District Police, Manikganj.”- এ এক পোস্টের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটায়।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে মুঠোফোনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন এই প্রতিবেদক। এর কিছুক্ষণ পর জেলা পুলিশের ওই ফেসবুক পেইজ থেকে ধর্ষণের শিকার নারীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয় সরিয়ে ফেলা হয়। তবে তার পরিবারের এক সদস্যের ছবি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যমান থাকতে দেখা যায়।

এর আগে, গত রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে এক ব্যক্তি নারায়নগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যান নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানা বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় আসার পর ভ্যান গাড়ির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য সদর হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এরপর হাসপাতালের গেটে ডিউটিরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন এবং আবু সাঈদ তাঁদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর সোমবার দুই আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৮ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের একটি বেঞ্চ ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর ছবি, নাম, ঠিকানা, পরিচয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলের তথ্য, পরিবার ও অনুরূপ কোনো তথ্য কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না মর্মে আদেশ দিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা জীবিত বা মৃত সকল ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আদেশে ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য সচিব, প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

২০২১ সালের ২৫ মার্চ তারিখে হাইকোর্টের লিখিত আদেশও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে একই নিষেধাজ্ঞা আরেকবার নিশ্চিত করা হয় এবং আলাদাভাবে রুল জারি করা হয় যেন বেআইনি প্রকাশের ব্যর্থতার কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী, ধর্ষণ বা নির্যাতনের শিকার নারী-শিশুর নাম, ঠিকানা বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা এবং তার মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

আইন অনুযায়ী, এ ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করলে আইনগত কার্যক্রম, অর্থদণ্ড বা শাস্তিসহ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আইন লঙ্ঘনকারীর দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google