সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পতিতাবৃত্তি ও হানিট্র্যাপ চক্রের তৎপরতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে প্রকাশ্যে ও গোপন গ্রুপে পোস্টের মাধ্যমে গ্রাহক খোঁজার প্রবণতা বাড়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ ব্যবহার করে আকর্ষণীয় ছবি ও মোবাইল নম্বর প্রকাশের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করছে। এসব পোস্টে বিভিন্ন নারীর ছবি ব্যবহার করে যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হয়, যা সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফলে অনৈতিক এই কার্যক্রমে উঠতি বয়সী তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি “মানিকগঞ্জ ১৮০০–Manikganj 1800” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে একাধিক নারীর ছবি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়েছে। “মেঘ বালিকা” নামের একটি আইডি থেকে এসব পোস্ট করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এসব পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। পোস্টগুলোর মন্তব্য ঘেঁটে দেখা যায়, অনেকেই সেবার মূল্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। একাধিক মন্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং জেলার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, আগে সীমিত পরিসরে গোপনে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে তা অনেকটাই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
এদিকে, সম্প্রতি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পতিতাবৃত্তি ও হানিট্র্যাপ চক্রের সঙ্গে জড়িত একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করাও জরুরি। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, বিষয়টি এখনও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নজরে আসেনি। তবে তথ্য পাওয়া গেলে এবং অভিযোগ দাখিল করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর সাইবার মনিটরিং জোরদারের পাশাপাশি তরুণদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


