সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া রিকশাচালক মো. জুসন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী মো. জুলহাস হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত জুসন সদর উপজেলার দেড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামবাসীরা বার্থা গ্রামের রাস্তার পাশের একটি ঝোপের নিচে জুসনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে মূল আসামী জুলহাস হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দেড়গ্রাম এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুলহাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ৬ এপ্রিল রাতে বিকাশে টাকা ভরার কথা বলে জুসনের রিকশা ভাড়া করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সে। একপর্যায়ে ভাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জুসন ভাড়া বাবদ ৮০০ টাকা দাবি করলে জুলহাস ২০০ টাকা দিতে চায়। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে জুসন তাকে রিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবারও জুসনকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকে জুলহাস। পরে বার্থা এলাকায় নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং মরদেহ পাশের একটি ঝোপে লুকিয়ে রাখে।
গ্রেফতারের পর জুলহাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “রিকশাচালক জুসন হত্যা মামলার মূল আসামী জুলহাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


