সুনামগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম উল্লেখ না করে সরাসরি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিল রোগীর হাতে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এতে রোগীরা কী টেস্ট করাচ্ছেন এবং কেন করানো হচ্ছে তা জানতে পারছেন না। এছাড়া নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জিএইচএম মাসুদুর রহমান রোগীর হাতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিল ধরিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রোগী দেখার পর চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে কোনো টেস্টের নাম লেখেন না। এর পরিবর্তে তিনি সরাসরি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার বিল প্রস্তুত করে টেস্ট করতে পাঠিয়ে দেন। ফলে রোগীরা বুঝতেই পারেন না ঠিক কী কী পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে তাকে। একইসঙ্গে সরাসরি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিল দেওয়ায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও পরীক্ষা করানোর সুযোগ থাকছে না।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুরের এক রোগীর স্বজন মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর আমরা যতদূর জানি, প্রেসক্রিপশনে টেস্ট লিখে দেয়। রোগীরা তার সুবিধা অনুযায়ী টেস্ট করান। কিন্তু এখানে তো ভিন্ন চিত্র। সরাসরি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্টের বিল দেওয়া হচ্ছে। এখন আমরা তো এই বিল দেখে বুঝতে পারছি না কী টেস্ট, কেন করতে হবে।’
আরেক রোগীর স্বজন রোজিনা বেগম বলেন, ‘আমরা বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রেসক্রিপশনে টেস্টের নাম না থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। একরকম বাধ্য হয়ে এই প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষা করিয়েছি। আমাদের কাছ থেকে টাকা কী বেশি নিলো নাকি কম নিলো এটাও বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, যে পরীক্ষাগুলো ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা সম্ভব নয়, শুধুমাত্র সেগুলোই প্রেসক্রিপশনে লেখা হয়। অন্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরাসরি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে চিকিৎসা নৈতিকতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিএইচএম মাসুদুর রহমান বলেন, ‘টেস্ট প্রেসক্রিপশনে লিখি না, এতে কাগজের অপচয় হয়। তাই প্রতিষ্ঠানের বিলে লিখে দিই।’
রোগীর প্রয়োজনীয় টেস্ট প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘রিপোর্টেতো কোড দেওয়া আছে। চাইলে প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য নিতে পারবে।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক রোগীর সব তথ্য প্রেসক্রিপশনে লিখবেন। টেস্ট লাগলে সেটাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা রোগীর স্বাধীনতা হরণের শামিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ফেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মকবুল হোসেন বলেন, ‘আপনি যার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বললেন, তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের এমডি। আর আমি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। আপনি বরং এমডি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


