দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান সংকটের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও লুটপাটকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে মুন্সিগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং শিশু মৃত্যুহার বাড়ার পেছনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন—উভয় সরকারের অবহেলা দায়ী। তিনি বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে হামের টিকা বিষয়ে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। গত ছয় বছর ধরে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। শুরুতে ৩০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু হলেও গত ২০ এপ্রিল থেকে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবিরকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি (ক্লোজ) দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: দোষারোপ ও হানাহানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার : আইনমন্ত্রী
পরে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় দফা পরিদর্শনে গিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার এবং একই কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মোঃ মিজানকেও সাময়িক বরখাস্ত (ক্লোজ) করার ঘোষণা দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ আকস্মিক পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


