রাত জেগে কাজ বা আড্ডার পর অনেকেই ভাবেন, আজ একটু বেশি ঘুমালেই পুষিয়ে যাবে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, কতক্ষণ ঘুমালেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা। বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চললে শুধু মনোযোগ বা মানসিক স্বাস্থ্যেরই উন্নতি হয় না, বরং হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, এমনকি আয়ুও দীর্ঘ হতে পারে।

হার্ট ভালো

Advertisement

নিয়মিত ঘুম কেন এত জরুরি

আমাদের শরীর একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি দিয়ে চলে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এই ঘড়িই ঠিক করে দেয় কখন ঘুম পাবে, কখন শরীর চাঙা হবে। একই সঙ্গে এটি নিয়ন্ত্রণ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন—

* মেলাটোনিন, যা রাতে ঘুম আনতে সাহায্য করে
* কর্টিসল, যা সকালে ঘুম ভাঙাতে ভূমিকা রাখে
* প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠা হলে এই ঘড়ি ঠিকঠাক কাজ করে। ফলে শরীর জানে কখন বিশ্রাম নিতে হবে, কখন সক্রিয় হতে হবে।
* নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জানিস অ্যান্ডারসন বলেন, ঘুমের সময় যত বেশি নিয়মিত হয়, শরীরের ভেতরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া তত ভালোভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। তাই ঘুমের সময় নির্দিষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

অনিয়মিত ঘুমের প্রভাব: অনিয়মিত ঘুম শরীরের জন্য নীরব ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় বারবার বদলালে—

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়
* শরীরে প্রদাহ (ইনফ্ল্যামেশন) বাড়ে
* রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হয়

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা বলছেন, ভুল সময়ে কর্টিসল নিঃসৃত হলে রক্তনালির ওপর চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাঙ্কের এক গবেষণায় প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘুমের নিয়মিত সময় মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণে ঘুমের মোট সময়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। র‍্যান্ড কর্পোরেশনের সিনিয়র স্লিপ সায়েন্টিস্ট ওয়েন্ডি ট্রোক্সেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ কিন্তু অবহেলিত উপায়গুলোর একটি হলো নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন রাতের শিফটে কাজ করলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘমেয়াদি সার্কাডিয়ান ডিসরাপশনকে সম্ভাব্য ক্যানসারজনিত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সুস্থ থাকতে যা করবেন

* প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান
* ছুটির দিনেও ঘুম থেকে ওঠার সময় খুব বেশি বদলাবেন না
* “আরেকটু ঘুমালেই চলবে”- এই চিন্তা বাদ দিন
* শরীরকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত করুন

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

ঘুমের ঘণ্টা বাড়ানোই সবসময় সমাধান নয়। মস্তিষ্ক, হার্ট এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত সময়মতো ঘুমোয়া। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম ও জাগ্রত থাকা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সুসংহত রাখে, মানসিক সতেজতা বৃদ্ধি করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য শুধু ঘুম নয়, ঘুমের রুটিনকেও প্রাধান্য দিন।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.