তীব্র তাপপ্রবাহে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ঘরে পালিত বিড়াল, কুকুর ও পাখিরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পোষা প্রাণীর মালিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই গরমে পোষা প্রাণীদের মধ্যে পানিশূন্যতা বা দেহে জলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, জ্বর ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে বিড়াল, কুকুর ও পাখির মধ্যে। অতিরিক্ত গরমে কুকুরের নাক শুষ্ক ও গরম হয়ে যাওয়া জ্বরের লক্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক মলত্যাগ বা মলে রক্ত দেখা দিলে তা গরমজনিত জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।
চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেড়েছে। এ বিষয়ে পশু চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “বর্তমানে গরমের কারণে অনেক পোষা বিড়াল ও কুকুরের রোগ নিয়ে মালিকেরা আসছেন। এর মধ্যে চর্মরোগ বা ত্বকের প্রদাহ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রাণীদের ঠান্ডা স্থানে রাখা, নিয়মিত গোসল করানো এবং অতিরিক্ত লোম থাকলে তা ছেঁটে দেওয়া—এই তিনটি ব্যবস্থা নিলে অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়।”
ঘরের পাখির যত্নেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যারা ময়না, টিয়া বা বাজরিগার পোষেন, তাদের উচিত খাঁচায় খাবার ও গোসলের জন্য আলাদা পানির ব্যবস্থা রাখা। প্রয়োজনে খাঁচার কাছে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে গরম কম লাগে।
বিড়াল ও কুকুরের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় বাইরে না নেওয়াই ভালো। ভোর বা সন্ধ্যার পর হাঁটাতে বের করা নিরাপদ। কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে পোষা প্রাণী রাখা উচিত নয়। ঘরের এক কোণে সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি রাখা দরকার এবং প্রাণীটি নিয়মিত পানি পান করছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে।
হঠাৎ প্রাণী নিস্তেজ হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘুমানো, খাবার বন্ধ করে দেওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে লালা ঝরলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো।
পোষা প্রাণী শুধু ঘরের অংশ নয়, তারা পরিবারেরই এক আবেগের অংশ। তাই এই প্রচণ্ড গরমে একটু বাড়তি যত্নই তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


