পশুখাদ্য উৎপাদন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে চীনের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষকরা ভুট্টার প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে সক্ষম একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন, যা ভবিষ্যতে সয়াবিনের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হতে পারে।

চীনের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাই নরমাল ইউনিভার্সিটি এবং সিছুয়ান অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রায় ১৫ বছরের দীর্ঘ গবেষণার ফল হিসেবে এই সাফল্য এসেছে। গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী *নেচার*-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় শনাক্ত হওয়া নতুন **টিএইচপি৩-টি** জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত **টিএইচআই৯-টি** জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে ভুট্টার দানায় প্রোটিনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ ভুট্টায় যেখানে গড়ে ১০ শতাংশ প্রোটিন থাকে, সেখানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তা প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব।
শুধু তাই নয়, চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার ক্ষেত্রেও প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিন উদ্ভিদের নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায়। এর ফলে গাছ অধিক কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন শোষণ ও ব্যবহার করতে পারে, যা অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টিএইচপি৩-টি ও টিএইচআই৯-টি জিন একসঙ্গে কাজ করলে কম নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ মাটিতেও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত ভুট্টা উৎপাদন সম্ভব হবে। এর ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো যাবে, যা পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে চীনের পশুখাদ্য শিল্পে প্রোটিনের প্রধান উৎস হলো সয়াবিন। দেশটির মোট সয়াবিন চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে নতুন এই প্রযুক্তি কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, পশুখাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের মাত্রা গড়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।
এছাড়া উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্যে এর ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি খামারিদের লাভও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সূত্র: চায়না ডেইলি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



