উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ‘অবশ্যই’ বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

ইরান ইতোমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসন আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে—এ অবস্থায় কোনোভাবেই আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।’
অন্যদিকে, মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইরান দলকে স্বাগত জানানো হলেও তাদের উপস্থিতি উপযুক্ত নয়, বিশেষ করে তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য।’
এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ডিসিতে সিএনবিসির এক অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা আশা করি তখন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হবে। তবে ইরানকে অবশ্যই আসতে হবে। তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং খেলোয়াড়রা খেলতে চায়।’
তিনি জানান, সম্প্রতি তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরান দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী বলেই জানিয়েছেন।
ইনফান্তিনোর বলেন, ‘খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। আমরা সবাই একই পৃথিবীতে বাস করি, আর সেতুবন্ধন তৈরি ও বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের।’
সূচি অনুযায়ী, ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলবে—১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে। পরবর্তী পর্বে উঠলে তাদের ম্যাচগুলোও যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করে ফিফা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ১৯৫০ সালের আসরের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়নি।
২০২৬ বিশ্বকাপকে ফিফার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি ছাড়াও বাণিজ্যিক দিক থেকে এটি প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে টিকিটের উচ্চমূল্য ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইনফান্তিনো জানান, ইতোমধ্যেই ৫০০ মিলিয়নের বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে এবং বিশ্বের ২১১টি দেশ থেকেই আগ্রহ দেখা গেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে এবং মাঠে দারুণ ফুটবল ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে।’
সূত্র: সিএনবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


