ইরান যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ভ্যাটিকানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান সংঘাত আরও তীব্রতর হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপ লিও চতুর্দশকে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কথা বলার সময় ‘সতর্ক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই দিনে হোয়াইট হাউসের বর্ডার চিফ টম হোমান পোপকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।
জর্জিয়ার এথেন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, পোপ শান্তির পক্ষে কথা বলবেন সেটি ভালো, কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময় তাকে সাবধান হতে হবে এবং তা ‘সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত’ কি না সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পোপের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে যিশুর অনুসারীরা কখনো ‘বোমা নিক্ষেপকারীদের’ পক্ষে থাকে না—এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই ভ্যান্স এই প্রতিক্রিয়া জানান।
অন্যদিকে পোপের সমালোচনায় সরব হয়েছেন হোয়াইট হাউসের অভিবাসন বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা টম হোমানও। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ক্যাথলিক চার্চের নিজস্ব অনেক সমস্যা রয়েছে যা আগে সমাধান করা প্রয়োজন এবং ভ্যাটিকানের উচিত রাজনীতিতে মাথা না ঘামানো।
হোমান উল্লেখ করেন, তিনি নিজেও ক্যাথলিক চার্চের সদস্য কিন্তু অভিবাসন ইস্যুতে চার্চের অবস্থান তার কাছে হতাশাজনক। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, চার্চের উচিত অভিবাসন নিয়ে কথা বলা বন্ধ করা কারণ তারা এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান রাখেন না।
এই বাকযুদ্ধ মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও’র মধ্যকার কয়েক দিনের প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের একটি অংশ। গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরান আলোচনায় না এলে তাদের ‘পুরো সভ্যতা’ মুছে ফেলা হবে। পোপ এই হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ ও ‘বৈদেশিক নীতিতে ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এমনকি গত রবিবার ট্রাম্প নিজেকে যিশুর মতো চিত্রিত করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-তৈরি ছবি পোস্ট করেন, যা নিয়ে উভয় দলের সংসদ সদস্য ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। যদিও পরে ট্রাম্প পোস্টটি ডিলিট করে দাবি করেন যে তাকে একজন চিকিৎসকের মতো দেখানো হয়েছে ভেবে তিনি এটি শেয়ার করেছিলেন।
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই পোপ লিও গত সোমবার জানান যে তিনি ট্রাম্পকে ভয় পান না এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বুধবার তিনি আবারও শান্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা থাকা সত্ত্বেও মানুষ শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে।
পোপের এই নমনীয় কিন্তু দৃঢ় অবস্থানের বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন আক্রমণাত্মক নীতি বজায় রাখছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলো একীভূত হয়ে যাওয়ায় এই সংঘাত এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য হিল
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

