বর্ষা এলেই বাজারে দেখা মেলে টক-মিষ্টি স্বাদের দেশি ফল লটকনের। ছোট, গোলাকার ও রসালো এই ফলটি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে লটকন খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মিলতে পারে আরও নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা।

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং বি-ভিটামিন রয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি, ফ্লু ও মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি মুখের ঘা দ্রুত শুকাতে এবং ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ফলের জলীয় অংশ বেশি হওয়ায় গরম ও বর্ষাকালে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে তৃষ্ণা মেটায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।
লটকনে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে উপকারী। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লটকনের পুষ্টি উপাদান রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন।
ত্বকের জন্যও লটকন উপকারী। এটি ত্বকের রুক্ষতা কমাতে, ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করতে এবং বর্ষাকালে চর্মরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রুচি বাড়ানো, বমিভাব কমানো এবং মানসিক অবসাদ দূর করতেও এ ফলের ভূমিকা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিদিন তিন থেকে চারটি লটকন খাওয়া নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত খেলে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। এছাড়া লটকনে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশি এই মৌসুমি ফলটি তাই বর্ষার খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের জন্য মিলতে পারে একাধিক উপকার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



