পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। অসমে জয়ের হ্যাটট্রিক, আর বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার সরকার গঠন করছে বিজেপি। পরাজয় স্বীকার করে প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। তবে তার আগেই মমতা পাশে পেলেন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেসকে। সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মদদেই বাংলা ও অসমে ‘ভোট চুরি’ করেছে বিজেপি।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যে ১০০টিরও বেশি আসনে জনাদেশ ‘লুট’ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন, সেন্ট্রাল ফোর্স, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে এই কাজ হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতার সেই দাবিকেই কার্যত মান্যতা দিয়েছেন রাহুল। মমতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। রাহুল লিখেছেন, ‘বাংলা ও অসম ভোট চুরির স্পষ্ট উদাহরণ। আমরা মমতাজির সঙ্গে একমত।’ তাঁর দাবি, এর আগে মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও একই কৌশলে ভোট চুরি করা হয়েছিল।
এ দিন ভবানীপুরে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। এরপরেই তৃণমূল নেত্রী এবং তামিলনাড়ুর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে ফোনে কথা বলেন রাহুল গান্ধী।
সূত্রের খবর, দুই নেতার সঙ্গে টেলিফোনিক কথোপকথনে রাহুল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং নির্বাচনের সময়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার উপর জোর দিয়েছেন। হার-জিত গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অঙ্গ, এই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় বিরোধী জোটকে অবিচল থাকার বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের অনুমান ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পরে বাংলায় কংগ্রেসের পুনরুত্থানের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলায় ভোট প্রচারে এসেও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেই প্রচার করেছিলেন রাহুল। তবে, বাংলায় তৃণমূলের ভরাডুবির পরে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যে রাজ্য কংগ্রেসের লড়াই-ই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। বাংলায় কিন্তু সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে বিরোধীদের কেউ, ভোট চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেননি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


