
২০১৩ সালের বিপিএল ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে মোট আট বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে সাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগটা মোটেও আশরাফুলের মতো গুরুতর নয়। আশরাফুল জুয়াড়িদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সেটা স্বীকারও করেছিলেন।
দুই বছর আগে এক জুয়াড়ির কাছে থেকে সাকিব প্রস্তাব পেলেও তাতে রাজি হননি। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে মোটেও জড়িত হননি। তবুও সাকিবকে শাস্তি পেতে হচ্ছে কারণ, তিনি বিষয়টা গোপন করেছিলেন। আইসিসির ধারামতে, অনৈতিক প্রস্তাব গোপন করাও অপরাধ। সেই অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে।
সাকিব আইসিসির সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন। আইসিসিও সাকিবের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। সাকিব শাস্তি কমানোর জন্য অবেদন করবেন। আইসিসিও তার শাস্তি কমানোর ব্যাপারে নাকি ইতিবাচক। সুখের কথা হলো, কঠিন সময়ে বিসিবিকেও পুরোপুরি পাশে পাচ্ছেন সাকিব। ১৮ মাসের শাস্তি কমে সম্ভবত ছয় মাসে নামতে পারে।
গত কিছুদিন ধরে বিসিবির সঙ্গে তার খুবই তিক্ত সম্পর্ক চলছিল। খেলোয়াড়দের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সাকিব। বোর্ড প্রেসিডেন্ট তার উপর প্রচণ্ড রেগেছিলেন। তবে বিপদে, সেই নাজমুল হাসান পাপনকেই পাশে পাচ্ছেন সাকিব। শাস্তি কমানোর জন্য বিসিবি থেকে সাকিব সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাপন।
নানা কারণে এর আগেও শাস্তি ও জরিমানার সম্মুখীন হতে হয় সাকিবকে। তবে সেগুলো ছিল বিসিবির পক্ষ থেকে। এবারের ঘটানাটা খুবই সাংঘাতিক। বড় ধাক্কা। একজন সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য খুই লজ্জার ও বিব্রতকর। তিনি দেশের সেরা খেলোয়াড়ই নন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারও। দুনিয়া জোড়া তার খ্যাতি। সেই খ্যাতিতে নিশ্চিতভাবে কালো দাগ লেগে গেল।
শুধু সাকিবের জন্য নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও বড্ড কঠিন সময় এখন। সাকিব ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দল চিন্তা করা কঠিন। আসুন, এই কঠিন সময়ে সাকিবের পাশে দাঁড়াই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে দাঁড়াই।
সূত্র : ঢাকা টাইমস্, লেখক : দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



