সাইফুল ইসলাম : ইউরোপের দেশ পর্তুগালে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রাকিবুল হাসান বাদি হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- মো. ওয়াসিম আলী, শহিদুর রহমান শাওন, মো. পান্নু মিয়া, মোছা. পাপিয়া আক্তার ও পারভিন বেগম। তারা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের মিরপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে পর্তুগালে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র হিসেবে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ সংগ্রহ করতেন। বিবাদী মো. ওয়াসিম আলী ভুক্তভোগী রাকিবুল হাসানের খালাতো ভাই মো. তামিম, মো. ফেরদৌস ও মো. হাদিসকে পর্তুগালে পাঠিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য ভিসা ও অন্যান্য খরচ বাবদ মোট ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
অভিযুক্তদের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন ধাপে টাকা প্রদান করেন রাকিবুল হাসান। এর মধ্যে পর্তুগাল প্রবাসী আত্মীয় মো. আরিফ হোসেনের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয়। পরে মো. ওয়াসিম আলীর নির্দেশে শহিদুর রহমান শাওনের বন্ধুর ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবেও ২ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া বাদীর বাসা থেকে নগদ ১২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্তরা।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভিসা বা বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বাদী ও সাক্ষীরা সন্দিহান হয়ে পড়েন। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, অভিযুক্তরা কোনো ভিসা প্রক্রিয়াই শুরু করেননি। বরং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে সময়ক্ষেপণ করছিলেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মানবাধিকার সংগঠন “Society For Establish & Implement of Rights”-এর শরণাপন্ন হলে সংগঠনটির মধ্যস্থতায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে শহিদুর রহমান শাওন ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা ফেরত দেন। একই সঙ্গে অবশিষ্ট ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় পার হলেও বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ৯ মার্চ বিকেলে ঢাকার কদমতলী থানাধীন দক্ষিণ দনিয়ার রহমতবাগ এলাকার বাদীর বাসা থেকে মো. ওয়াসিম আলী ও পারভিন বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে পারিবারিক আলোচনা শেষে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
বাদীপক্ষ আদালতের কাছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১/৩৬ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ওয়াসিম আলী ও শহিদুর রহমান শাওনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আওলাদ হোসেন বলেন, আদালতে মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এছাড়া, অভিযুক্তরা কোন রিক্রুইটিং এজেন্সির সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


