আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা তাদের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শেষে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার অভিজ্ঞতা ও বিস্ময়কর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সফলভাবে মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরে আসার পর নাসার কেন্দ্রেও দেখা যায় আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ। এ বিষয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

নভোচারীরা জানান, তারা ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো চাঁদের চারপাশে ‘স্লিংশট’ কৌশল সম্পন্ন করেন এবং মানুষের ইতিহাসে অন্যতম গভীর মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করেন। মিশন শেষে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে সফলভাবে অবতরণ করেন।
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেনের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ। তিনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন নিজেদের অভিন্ন মানবতা উপলব্ধি করে।
কচ তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে শুধু পৃথিবীর সৌন্দর্য নয়, বরং এর চারপাশের বিশাল অন্ধকার। পৃথিবীকে মহাবিশ্বে ভাসমান একটি জীবনরক্ষাকারী নৌকার মতো মনে হয়েছে।”
হ্যানসেন বলেন, এই মিশনের নভোচারীরা মানুষের বৈচিত্র্য ও অর্জনের প্রতীক। তিনি বলেন, গ্লোভার ছিলেন চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, কচ প্রথম নারী এবং কানাডার হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই মিশনে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন আকাশের দিকে তাকায়, তখন তারা কেবল নভোচারীদের দেখে না, বরং নিজেদেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।
গভীর মহাকাশে দ্রুতগতিতে ভ্রমণের সময় আর্টেমিস–২ ক্রুরা হাজার হাজার ছবি ধারণ করেন। তারা সূর্যগ্রহণ এবং চাঁদের পৃষ্ঠে উল্কাপাতের বিরল দৃশ্যও পর্যবেক্ষণ করেন।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “আর্টেমিস–২ একটি স্মরণীয় মাইলফলক। এটি মানবজাতিকে আবার চাঁদের দিকে তাকাতে শিখিয়েছে এবং মহাকাশ অভিযানের স্বপ্নকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে।”
আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য হলো চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গলসহ আরও দূরের মহাকাশ অনুসন্ধানে সহায়তা করবে। নাসা আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যেই আবারও চাঁদে মানব অবতরণ সম্ভব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


