দেশের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার বিঘা জমি দখলে রেখে অলসভাবে বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ৩৮ থেকে ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটির দখলে রয়েছে ৫ থেকে ১০ হাজার বিঘা জমি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার একর জমিও রয়েছে। এছাড়া পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও অন্তত ৫০টি প্রতিষ্ঠানের কাছেও বিপুল পরিমাণ জমি অলস পড়ে আছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ সরকারি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই অলস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে ধীরে ধীরে বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের ১৫টি সুগার মিলের প্রতিটির আয়তন এক হাজার বিঘারও বেশি। অথচ এসব জায়গায় অন্তত ১০টি করে আধুনিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব। কোন প্রতিষ্ঠানের আয়তন ও সক্ষমতার তুলনায় কত আয় হচ্ছে, তা বিবেচনায় নিয়েই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে দুটি বড় সমস্যা রয়েছে—প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়। ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ ও জটিলতা কমিয়ে সব সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানোর দিকেও সরকার কাজ করছে।
প্যাকেজিং শিল্প নিয়ে আশাবাদ
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই এক্সপো বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং শিল্প রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্যাকেজিং শুধু মোড়ক নয়; এটি পণ্যের গুণগত মান, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধবভাবে উন্নয়ন করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকার ২০২৬ সালের জন্য সংশ্লিষ্ট পণ্যকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এর রপ্তানি বাড়াতে বছরজুড়ে কাজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর জানান, দেশে বর্তমানে প্যাকেজিং শিল্পের বাজার প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশ্ববাজারে এ শিল্পের আকার ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার; বাংলাদেশ এর সামান্য অংশও অর্জন করতে পারলে বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ শিল্পে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং দেশের ৮০ শতাংশের বেশি চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


