সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এক জুলাই যোদ্ধাকে আওয়ামী লীগের দোসর ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আটক ওই যুবকের দাবি, থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার অনুসারী না হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্তর অনুসারী হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুলিশের দাবি, একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে থানায় আনা হয়েছিল। পরে যাচাই করে দেখা যায়, তিনি ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক হওয়া সাইফুদ্দিন টিটু সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের চারিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আফতাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে। টিটুর দাবি, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী এবং চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীনের অনুসারী। চেয়ারম্যান স্বাধীন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
টিটুর অভিযোগ, গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সিংগাইর থানার এএসআই বাবুলের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য চারিগ্রাম বাজারের হৃদয় টেলিকম থেকে তাকে থানায় নিয়ে যান।
টিটু বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ এসে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। থানায় নেওয়ার পর আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর ও ফ্যাসিস্ট বলা হয়। বলা হয়, নাশকতার যত মামলা আছে, সবগুলোতে আমার নাম দেওয়া হবে। আমি তখন আমার মোবাইল ফোনে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও দেখাই। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
তার দাবি, থানার এএসআই বাবুল তাকে বলেন, “জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লাগতে নেই। তুমি রিতার গ্রুপ বাদ দিয়ে এমপি শান্তর গ্রুপ করো।”
টিটু আরও অভিযোগ করেন, আটকের সময় ও থানায় অবস্থানকালে বারবার তাকে বলা হয়েছে, “তুই মন্ত্রীর গ্রুপ করোস। তুই আওয়ামী লীগের দোসর, তুই ফ্যাসিস্ট।” তার ভাষ্য, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলামও তাকে বলেন, “তুই ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ করতি।”
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই বাবুল বলেন, “ওটা তো মীমাংসা হয়ে গেছে। আমি কিছু জানি না। আপনি সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন।”
সিংগাইর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মীর নাজমুল হাসান বলেন, এএসআই বাবুলের নেতৃত্বে সাইফুদ্দিন টিটুকে আটক করা হয়েছিল। সিডিএমএসে একটি মামলায় তার নামে ওয়ারেন্ট দেখানো হচ্ছিল। সে কারণে তাকে থানায় আনা হয়। পরে ক্রসচেক করে দেখা যায়, তিনি ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই বক্তব্য দেন সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম।
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, টিটুর আটকের বিষয়টি জানার পর মন্ত্রীর দপ্তর থেকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তখন পুলিশ জানায়, ‘উপরের নির্দেশে’ তাকে আটক করা হয়েছে।
সূত্রটির আরও দাবি, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্তর নির্দেশেই টিটুকে আটক করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজেদুল আলম স্বাধীনের অনুসারী হওয়ায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও সূত্রটির অভিযোগ। সূত্রের ভাষ্য, মন্ত্রীর দপ্তর থেকে তদারকি না হলে টিটুকে একাধিক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হতে পারত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
তিনি বলেন, “আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। গ্রুপিংয়ের কারণে কাউকে গ্রেফতার করাতে হলে স্বাধীন, জয় কিংবা মিঠুকে করাতাম। টিটুকে কেন গ্রেফতার করাব? টিটুর গ্রেফতারের বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



