ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে হত্যা মামলার এক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আরিফ সরকার (৪০) নামের ওই আসামিকে বুধবার দেশে আনার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, আরিফ সরকার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে শিবপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হন হারুন অর রশিদ খান। প্রথমে তাকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তাকে ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দিল্লিতে অস্ত্রোপচারের পর গত বছরের ১ মে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তাকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ মে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৯ মে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে তার মৃত্যু হয়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই দিন পর হারুন অর রশিদ খানের ছেলে মো. আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। সে সময় প্রধান আসামিসহ কয়েকজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পরে ২০২৩ সালের ২৩ জুন মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। গত বছরের জুলাইয়ে একই মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
পিবিআই বলছে, মহসিন মিয়া আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য দেন। এরপর তদন্তে আরিফ সরকারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান শনাক্ত করতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আরিফের অবস্থান দুবাইয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।
ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পিবিআই ও পুলিশ সদরদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল দুবাই গিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পিবিআইয়ের নরসিংদীর বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, এই মামলার সব আসামিকে এখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, দুবাই থেকে দুজন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


