দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যে কালো মেঘ জমেছিল, তা পেরিয়ে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য নিয়ে এসেছে এক পশলা প্রশান্তির বৃষ্টি। গত ১৬-১৭ বছর ধরে ‘ঈদের পর আন্দোলন’- এই বাক্যটি দেশের রাজনৈতিক মহলে অনেকটা উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

প্রতিবারই ঈদ আসতো, আর বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলখানা কিংবা আত্মগোপন থেকে ঈদের চাঁদ দেখতেন। পরিবারের সঙ্গে সেমাই খাওয়া বা সন্তানদের নতুন জামা কিনে দেওয়ার আনন্দ তাদের কাছে ছিল এক অলীক কল্পনা।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয় সেই হাওয়াকে এক মহা-উৎসবে রূপান্তর করেছে। এবারের ঈদ তাই আন্দোলনের প্রস্তুতির নয়, বরং এক দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করার।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত সময়কালটি বিএনপির জন্য ছিল এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলকে এত দীর্ঘ সময় ধরে সুপরিকল্পিত দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়নি।
এই সময়ে বিএনপির ঈদ মানেই ছিল গ্রেফতারি পরোয়ানা, হুলিয়া এবং পুলিশি তল্লাশির আতঙ্ক। ঈদগাহে যাওয়ার চেয়ে আদালত পাড়ায় হাজিরা দেওয়া ছিল তাদের নিয়মিত রুটিন। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি বারবার অবরুদ্ধ হয়েছে, কলাপসিবল গেটে ঝুলেছে বড় তালা। ঈদ উপলক্ষে দলটির তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যে শুভেচ্ছা বা সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন থাকত, তাও পণ্ড হতো গোয়েন্দা নজরদারি আর ধরপাকড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৬ বছরে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা শুধু একটি ঈদ বা একটি বিজয় দিয়ে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। তবে ২০২৬ সালের এই ঈদটি তাদের সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করবে।
আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় প্রতি বছরই ঘোষণা আসতো- ‘ঈদের পর কঠোর আন্দোলন শুরু হবে’। কিন্তু বাস্তবে দেখা যেত, ঈদের আগেই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হাজতে পোরা হতো। ঈদের দিনটিতেও নেতাকর্মীরা নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারতেন না।
পুলিশি হামলায় বারবারই তারা ছত্রভঙ্গ হয়েছেন। এমনকি ঈদের নামাজ শেষ করে কোলাকুলি করার সময়ও সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ অনেক নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে গেছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাস্তায় দাঁড়াতে না দেওয়ার জন্য তৎকালীন সরকার যে মরণকামড় দিয়েছিল, তাতে রাজপথের আন্দোলনে ভাটা পড়ত বারবার। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জেগেছিল, বিএনপি কি সত্যিই আন্দোলনে ফিরতে পারবে? কিন্তু ২০২৪-এর আগস্টের পটভূমি সব পাল্টে দেয়। ২০২৫ সালের ঈদেও এক ধরনের স্বস্তি ছিল, তবে তা ছিল অনেকটা অনিশ্চয়তার। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আর সেই অনিশ্চয়তা নেই। এবার রাজপথে পুলিশের লাঠিচার্জ বা টিয়ারশেল নয়, বরং ফুল আর উৎসবের আবহে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন নেতাকর্মীরা।
শুধু যে বড় নেতারা জেল খেটেছেন তা নয়, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরাই ছিলেন সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত। রমনা থানার বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের জীবনের দিকে তাকালে সেই চিত্র স্পষ্ট হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবার তিনি তার নিজ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে ঈদ পালন করবেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছর ঈদ উদযাপন দূরে থাকুক, এলাকায় লুকিয়ে আসারও সুযোগ পাইনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হতো ঢাকার বাইরের কোনো এক অচেনা জায়গায়। নিজের বাড়ির আঙিনায় বসে সন্তানদের সাথে সেমাই খাওয়া ছিল আমার কাছে স্বপ্নের মতো। বহু বছর পর এবার আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশীদের নিয়ে ঈদ করছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, এবার আর চোরের মতো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে না।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতা ঢাকা দক্ষিণের যুবদল নেতা মাসুদ পারভেজের। তিনি দীর্ঘ এক দশক এলাকাছাড়া ছিলেন। মাসুদ জানান, “একের পর এক গায়েবি মামলা দিয়ে বাড়িতে থাকা কঠিন করে তুলেছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা। আমি বাড়ি আসছি কি না, তা দেখার জন্য ডিবি পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের গুপ্তচররা ওৎ পেতে থাকত। ঈদের দিনেও আমাকে অন্যের বাড়িতে রাত কাটাতে হয়েছে। দল ক্ষমতায় আসার পর এখন মানুষের সম্মান পাচ্ছি, এটাই বড় পাওয়া।” তৃণমূলের এই স্বস্তিই বলে দিচ্ছে, এবারের ঈদ বিএনপির জন্য কতটা আলাদা।
এত আনন্দের মাঝেও ‘গুম’ হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারদের দীর্ঘশ্বাস বিদ্ধ করছে বিএনপিকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও গুম হয়ে যাওয়া সেই মানুষগুলো আর ফিরে আসেননি। ঢাকার আলোচিত কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের পরিবার আজও তার পথ চেয়ে বসে আছে। ঈদের আনন্দ এই পরিবারগুলোর জন্য বিষাদের মতো। তার স্বজনেরা হয়তো কোনোদিন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না।
একইভাবে নিখোঁজ হওয়া প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবার। তার শূন্যতা কেউ পূরণ করতে পারবে না। যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এখন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন, কিন্তু ঈদের সকালে নামাজের পর ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতি তাকে ও তার সন্তানদের ঠিকই অশ্রুসিক্ত করবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ক্ষতগুলো উপশম করা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদঘাটন করা না হলে এই ঈদগুলোর পূর্ণতা আসবে না।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জীবন গত দুই দশকে ছিল জেল আর আদালতের মাঝে বন্দি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি শত শত মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন, তিনি এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারক। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির মতো নেতারা যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, তারা এখন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলটির দীর্ঘদিনের মুখপাত্র ও ‘লিভিং লিজেন্ড’ খ্যাত রুহুল কবির রিজভী, যিনি বছরের পর বছর নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক প্রকার ‘গৃহবন্দি’ হয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়েছেন, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা হিসেবে তার এবারের ঈদ কাটবে সম্পূর্ণ অন্যভাবে।
এবারের ঈদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের পৈত্রিক ভিটায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে তার নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আর অভিনন্দনে সিক্ত হতে ঈদের নামাজ পড়বেন এলাকার মানুষের সঙ্গে। তাদের কাছে এই ঈদ কেবল উৎসব নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের এক সফল সমাপ্তির স্মারক। এই নেতারা এখন আর আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন না, বরং দেশ গড়ার অঙ্গীকার করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিগত ১৭টি বছর আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর কাছে ঈদ এসেছে একটি আতঙ্কের বার্তা নিয়ে। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম নিজের ঘরে ঘুমানোর স্বাদ কেমন, আমরা ভুলে গিয়েছিলাম পরিবারের সঙ্গে ডাইনিং টেবিলে বসে সেমাই খাওয়ার আনন্দ। প্রতিবার যখন ঈদের চাঁদ দেখা দিত, আমাদের মনে হতো- এই বুঝি দরজায় পুলিশের করাঘাত পড়বে, এই বুঝি কোনো ডিবি অফিসারের নির্দেশে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের অগণিত নেতাকর্মী বছরের পর বছর ঈদ কাটিয়েছেন অন্ধকার সেলফে, কাশিমপুর কিংবা কেরানীগঞ্জের জেলখানায়। যারা বাইরে ছিলেন, তারা ছিলেন পলাতক। আমাদের কর্মীরা নিজ গ্রামে যেতে পারতেন না আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্যাডারদের ভয়ে। কিন্তু এবারের ঈদ আমাদের কাছে এক নতুন পৃথিবীর মতো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে ২০২৬ সালের ঈদ উদযাপনকে তারা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখছেন না, বরং তা বাংলাদেশের সমাজ-মানসের একটি ‘সাইকোলজিক্যাল ডিকারসারেশন’ বা মানসিক কারামুক্তি হিসেবে দেখছেন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপিকে যেভাবে একটি ‘নিষিদ্ধপ্রায়’ সংগঠনে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তাতে দলটির তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এক ধরণের ট্রমা তৈরি হয়েছিল। ‘ঈদের পর আন্দোলন’- এই বাক্যটি এক সময় একটি রাজনৈতিক কৌতুক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রচণ্ড নিপীড়নে কোনো বিরোধী দলের পক্ষেই তখন পূর্ণাঙ্গ আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব ছিল না। পুলিশি হামলায় বারবার ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সেই স্মৃতিগুলো এখন নেতাকর্মীদের কাছে এক দুঃস্বপ্ন মাত্র।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বিএনপি অর্জন করেছে, তা এই ঈদে নেতাকর্মীদের মনে এক ধরনের রাজনৈতিক বৈধতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে। যে মানুষটি গত ১০ বছর ঈদে বাড়ি ফিরতে পারেনি, তার কাছে এই বাড়ির বারান্দায় বসে থাকাটাই এক বিরাট বিপ্লব। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই স্বস্তির পাশাপাশি বিএনপির সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জও আছে বলে মনে করছেন। গুম হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর হাহাকার এখনো মেটেনি। এই ঈদ তাই বিএনপির জন্য যেমন পরম প্রাপ্তির, তেমনি এক বিরাট দায়বদ্ধতারও। বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের এই বিপুল আকাঙ্ক্ষা আর স্বস্তিকে যদি বিএনপি সরকার টেকসই শাসনে রূপ দিতে পারে, তবেই এই ঈদের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হবে। মানুষ আর স্বৈরাচারের অতীতে ফিরে যেতে চায় না।
আন্দোলনের পরিবর্তে ঈদের আনন্দ বিএনপির পাড়ায় পাড়ায় এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। বগুড়া থেকে বরিশাল, সিলেট থেকে খুলনা- সব স্থানেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। যে পুলিশ আগে তাড়া করত, সেই পুলিশ এখন তাদের প্রটোকল দিচ্ছে। তবে এই ক্ষমতার আনন্দ যেন দম্ভে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও সজাগ দলের নীতিনির্ধারকরা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এবারের ঈদ বিএনপিকে সুযোগ করে দিয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠার এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার। গুম-খুন আর নির্যাতনের সেই বিভীষিকা পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের এই ঈদ উদযাপনটি হয়ে থাকবে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। আন্দোলন শেষ হয়েছে, এবার সময় উন্নয়নের এবং মানুষের মুখে স্থায়ী হাসি ফোটানোর। গুম হয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারগুলোর চোখের জল হয়তো পুরোপুরি শুকাবে না, তবে স্বাধীন দেশে নিজের এলাকায় নিরাপদে ঈদ পালন করতে পারার স্বস্তিই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
সূত্র : বাংলানিউজ২৪
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


