আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। এটি প্রতিদিন রক্ত পরিশোধন করে, শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক সময় শরীর স্পষ্ট কোনো সতর্ক সংকেত দেয় না। ফলে অনেকেই রোগ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই বিষয়টি জানতে পারেন।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি বা দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে উপেক্ষিত হয়। তবে সময়মতো সচেতন হলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনি রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
নিচে কিডনি রোগের ৭টি নীরব লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো অনেকেই সহজভাবে এড়িয়ে যান—
১. পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া
হঠাৎ করে জুতা টাইট লাগা বা পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে যায়, যা সাধারণত পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব সৃষ্টি করে।
২. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে এটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। কিডনি বর্জ্য ও তরল ঠিকভাবে বের করতে না পারলে শরীরে পানি জমে যেতে থাকে।
৩. সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা
পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হলে তা কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, তাই সমস্যা হলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
৪. বমি বমি ভাব ও খাবারে অনীহা
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বর্জ্য জমে যায়, যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব বা খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
৫. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকা
কিডনি রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৬. বুক ধড়ফড় করা
কিডনির সমস্যা থাকলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। ফলে বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে।
৭. মাথা ঝাপসা লাগা বা মনোযোগের ঘাটতি
হঠাৎ করে ভুলে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা বা মাথা ভার লাগা কিডনি সমস্যার কারণে হতে পারে। শরীরে বর্জ্য জমে গেলে তা মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথানাশক ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করলে কিডনি রোগ অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি নীরবে অগ্রসর হয়, তাই সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


