অ্যানিমিয়া সাধারণত আয়রনের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে, তবে এর বাইরে একটি বিরল কিন্তু গুরুতর রক্তরোগও রয়েছে—অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া। এই রোগে শরীরের রক্ত তৈরির মূল কেন্দ্র, অর্থাৎ বোন ম্যারো, ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলস্বরূপ লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সীমিত, তবে সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বোন ম্যারো যদি রক্তকণিকা উৎপাদনে ব্যর্থ হয়, তা রোগীর শরীরে তীব্র দুর্বলতা, সংক্রমণের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা সৃষ্টি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বোন ম্যারো ফেলিওর বলা হয়।
অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে তরুণদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। অনেক সময় রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। সম্ভাব্য কারণের মধ্যে রয়েছে বংশগত সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ (যেমন বেনজিন), রেডিয়েশন, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এবং অটোইমিউন রোগ।
রোগের লক্ষণ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত, অল্প আঘাতেও নীল দাগ, ঘন ঘন জ্বর বা সংক্রমণ এবং মুখে ঘা। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট সবচেয়ে কার্যকর, যা মিল থাকা ভাইবোন বা উপযুক্ত ডোনার থেকে করা হয় এবং সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য ট্রিপল ইমিউনোসাপ্রেসিভ থেরাপি ব্যবহৃত হয়, যা অ্যান্টিথাইমোসাইট গ্লোবুলিন, সাইক্লোস্পোরিন এবং এলট্রম্বোপ্যাগের সমন্বয়। এতে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
সংক্ষেপে বলা যায়, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বিরল হলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সংক্রমণ বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


