দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তিনি। সিনেমার অ্যাকশন সিনে যেমন তার চমক থাকে, এবার তেমনই চমক দেখালেন বাস্তব জীবনে। সিনেমার রঙিন পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে দল গঠন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন।

অবশেষে রবিবার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর যোসেফ (থালাপতি) বিজয়।
তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আদেশেই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হেল্পলাইনসহ বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ রাখব। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে।
বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন।
কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করেছে। আমরা ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না।
‘ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তী, বামদের ‘মা বেবি’ এবং সকল মিত্রকে ধন্যবাদ জানান। তামিলনাড়ুতে তার দলের সরকার গঠন নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তার পর বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১১৮ আসনের কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ
মা দিবসে আবেগঘন পোস্ট ফারিয়ার, জানালেন জীবনের দুই ‘মা’র গল্প
এরপর টিভিকে পাঁচটি আসন থাকা কংগ্রেস ও দুটি করে আসন থাকা সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থন লাভ করে। শনিবার পর্যন্ত চলা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটে সন্ধ্যায়। কারণ দুজন করে বিধায়ক থাকা ভিসিকে ও আইইউএমএল তাকে সমর্থন জানায়। ফলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এখন বিজয়ের সামনে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে পাস করা। ১৩ মে’র আগেই তাকে নিজের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


