পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুভেন্দু অধিকারীর ঘুস নেওয়ার একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মূলত ২০১৬ সালের এই ভিডিওটি একসময় বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করলেও এখন সেটি বুমেরাং হয়ে দলটির ওপরই ফিরে এসেছে। পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিজেপির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই ভিডিওটি রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা, যা শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ উসকে দিয়েছে।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের, যখন নারদা স্টিং অপারেশনের আদলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপি দাবি করেছিল, তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং মুকুল রায়সহ শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন স্থানে অর্থের লেনদেন করছেন। সেই সময় এই ভিডিওটিকে প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায় যখন মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এই প্রভাবশালী নেতাদের দলবদলের পরপরই বিজেপি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেই বিতর্কিত ভিডিওটি সরিয়ে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি মুছে ফেলার এই সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সমালোচকরা বিজেপির এই পদক্ষেপকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন এবং অভিযোগ তুলেছেন, গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর নেতাদের অতীত দুর্নীতির রেকর্ড মুছে ফেলে তাদের পবিত্র করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, বিজেপির দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আসলে রাজনৈতিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল এবং এটি তাদের সিলেক্টিভ বা পক্ষপাতমূলক আচরণের বড় প্রমাণ। যদিও বিজেপি তাদের চ্যানেল থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে, তবুও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে এটি এখন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
কমলনগরে বিএনপি নেতার চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
এই ডিজিটাল লড়াই মূলত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আদর্শের চেয়েও দলের স্বার্থ এবং কৌশলগত চাল যে কতটা প্রভাবশালী, তারই একটি নগ্ন রূপ ফুটিয়ে তুলেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


