আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রযোজকদের আকৃষ্ট করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে শুটিং করা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণে এখন থেকে যোগ্য স্থানীয় ব্যয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় বা ক্যাশ রিবেট দেওয়া হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র প্রণোদনার মানচিত্রে সৌদি আরব এখন শীর্ষ অবস্থানে উঠে এল। শুক্রবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে সৌদি ফিল্ম কমিশন এই নতুন প্রণোদনা কার্যক্রম ঘোষণা করে।
কান উৎসবের মার্শে দু ফিল্ম সেশনে এই পরিকল্পনা উন্মোচন করেন কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বিন নাসের আল-কাহতানি। পরিমার্জিত প্রণোদনা কার্যক্রমে শুধু রিবেটের হার বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন একটি অর্থায়ন প্যাকেজও চালু করা হয়েছে। এই ফান্ড সৌদি সাংস্কৃতিক খাতে রাষ্ট্রীয় মূলধন সরবরাহের মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
কমিশন জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো মূলত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালন পরিবেশ সহজ করা এবং শুটিং চক্রজুড়ে নগদ অর্থপ্রবাহের পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের চলচ্চিত্র সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে বৈশ্বিক প্রযোজকদের যেসব অভিযোগ আগে উঠেছিল, এই সংস্কারগুলো সেগুলোরই জবাব বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন সৌদি পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত চাপের মুখে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ২০২৬ সালের যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিমান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০১৯ সালে পর্যটকদের জন্য দরজা খোলার পর থেকে সৌদি আরব তার প্রতিবেশীদের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত গতিতে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাড়াচ্ছিল; তবে এই মন্দার ধাক্কায় তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
এই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র খাতে নতুন রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন কেন্দ্রীভূত করে রিয়াদ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আঞ্চলিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশটি তার কনটেন্ট নির্মাণ অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে অবিচল থাকবে। চলচ্চিত্র হলো যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ন পরিকল্পনার অন্যতম সাংস্কৃতিক স্তম্ভ। তবে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক প্রযোজকরা মধ্যপ্রাচ্যে শুটিং করার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
আল-কাহতানি বলেন, ‘এই ঘোষণা সৌদি আরবের সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই সম্প্রসারণ, যেখানে ক্ষমতায়ন ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি টেকসই চলচ্চিত্র খাত গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, আর্থিক নিরীক্ষা ও বিতরণ পদ্ধতির গাইড চালু করাসহ সম্প্রতি নেওয়া নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপগুলো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ‘আরও বেশি স্বচ্ছতা’ দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদ বিন আবদুলমুহসেন আল-হুগাইল বলেন, নতুন অর্থায়ন সংযোজন শিল্পের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজকের বৈশ্বিক চলচ্চিত্র শিল্পে প্রক্রিয়ার গতি ও স্বচ্ছতাই প্রযোজনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার মূল উপাদান হয়ে উঠেছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি আরও দক্ষ ও নমনীয় অভিজ্ঞতা দিতে চাই, যা বিভিন্ন ধাপের প্রকল্পের চাহিদা পূরণ করবে এবং আন্তর্জাতিক নির্মাণের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে সৌদি আরবের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।’
৬০ শতাংশের এই সীমা সৌদি আরবকে বৈশ্বিক চলচ্চিত্র প্রণোদনার একেবারে শীর্ষে নিয়ে গেছে। ইউরোপের প্রধান জাতীয় রিবেট সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে থাকে। থাইল্যান্ডের সংশোধিত প্রকল্প এবং অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রসারিত লোকেশন অফসেটসহ এশিয়া-প্যাসিফিকের সবচেয়ে আগ্রাসী কার্যক্রমগুলোর চেয়েও সৌদি প্রণোদনার হার এখন অনেক বেশি। তবে আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি থেকে গেছে, সেটি হলো এই কার্যক্রমে মোট বাজেট এবং বার্ষিক ঊর্ধ্বসীমা কতটুকু। সৌদি ফিল্ম কমিশন এই দুটি তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি, যা নতুন কার্যক্রমটি আসলে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করতে আগ্রহী প্রযোজকদের জন্য একটি অনিশ্চয়তাই রয়ে গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



