মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জে এক তরুণীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যের ছবি ও নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত না মিললেও একটি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকের এমন অপপ্রচারে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পুলিশ জানায়, মানিকগঞ্জে বৃষ্টি আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ‘দৈনিক সরেজমিন বার্তা’ পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার আসাদুর জামান পুলিশকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আর অসত্য তথ্যের উপর ভিত্তি করে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ আরো জানায়, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ সেওতা এলাকায় একেএম মনিরুজ্জামানের পাঁচতলা ভবনের ছাদের একটি কক্ষ থেকে বৃষ্টি আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই তরুণী শহরের একটি কসমেটিক দোকানের কর্মচারী ছিলেন। ঘটনার পর মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
গত ১৮ এপ্রিল সাংবাদিক আসাদুর জামান দৈনিক সরেজমিন বার্তা নামক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘মানিকগঞ্জে রহস্যজনক মৃত্যু: আত্মহত্যা নয়, হত্যার অভিযোগ; মাকে ফাঁসানোর হুমকি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সেখানে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ হোসাইনের ইউনিফর্ম পরা ছবির সাথে মৃত তরুণীর ছবি এডিট করে ব্যবহার করা হয়। সংবাদটিতে দাবি করা হয়, বাড়ির মালিকের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ নিহতের মাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং উল্টো তাকেই আসামি বানানোর হুমকি দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে গত ২৪ এপ্রিল প্রকাশিত তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সাংবাদিক আসাদুর জামানের করা দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিহতের শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত নেই এবং শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। মূলত এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ হোসাইন বলেন, ”৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যাই। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, যা এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ভাঙা হয়। ডায়েরি থেকে নিহতের মায়ের নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাতেই আসতে অস্বীকৃতি জানান। বিধি মোতাবেক সুরতহাল শেষে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। অথচ সাংবাদিক আসাদুর জামান সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এতে আমার ব্যক্তিগত জীবন ও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তদন্তাধীন একটি স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ কোনোভাবেই সাংবাদিকতার নীতিমালার মধ্যে পড়ে না।”
নিহত তরুণীর মাকে মামলা না করতে ভয়-ভীতি দেখানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই তরুণীর মাকে মামলা করতে না করা বিা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তাকে বলা হয়েছে, আপাতত অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে ময়না তদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ বা হত্যাকাণ্ডের কোন আলামত পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী মামলা রুজু করা হবে। যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে এর সাথে কে বা কারা জড়িত তদন্ত করে বের করা হবে। কিন্ত সবশেষে ময়না তদন্তের রিপোর্টে হত্যা বা ধর্ষণের কোন আলামত মেলেনি।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আসাদুর জামান বলেন, নিহত তরুণীর পরিবারের দাবি ও বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদে আমার নিজস্ব কোন মতামত প্রকাশ করা হয়নি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


