প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্যামসাং ও গুগলের যৌথভাবে তৈরি অ্যান্ড্রয়েড এক্সআর স্মার্টগ্লাস। গুগল আই/ও ২০২৬ ইভেন্টে ডিভাইসটির প্রাথমিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এটি নির্দিষ্ট কিছু বাজারে উন্মুক্ত করা হতে পারে।

এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পে স্যামসাং ও গুগলের পাশাপাশি সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে বিশ্বখ্যাত চশমা ব্র্যান্ড ওয়ারবি পার্কার এবং জেন্টল মনস্টার। এই দুই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ভিন্ন ডিজাইনের দুটি স্মার্টগ্লাস বাজারে আসবে—একটি আধুনিক ও ফ্যাশনেবল ডিজাইনের, অন্যটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ ও ক্লাসিক ব্যবহারের উপযোগী।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই স্মার্টগ্লাসে কোনো বিল্ট-ইন ডিসপ্লে থাকবে না। এটি মূলত অডিওভিত্তিক একটি ডিভাইস হিসেবে কাজ করবে। এতে ব্যবহারকারীরা ভয়েস কমান্ড, ইন-বিল্ট স্পিকার এবং ক্যামেরার মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।
ডিভাইসটি স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করবে। ফলে ব্যবহারকারীরা ফোন পকেটে রেখেই নেভিগেশন, কল ও মেসেজ নোটিফিকেশন, রিয়েল-টাইম ভাষা অনুবাদ এবং স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে গুগলের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’ ইন্টিগ্রেট করা থাকবে। এর ফলে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে আরও দ্রুত ও স্মার্ট সেবা পাওয়া যাবে। এআই-নির্ভর এই প্রযুক্তি ডিভাইসটিকে একটি পরিধানযোগ্য ব্যক্তিগত সহকারীতে পরিণত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্মার্টগ্লাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ‘হ্যান্ডস-ফ্রি’ অভিজ্ঞতা। ব্যবহারকারীরা চোখ ও হাত ব্যবহার না করেই তথ্য গ্রহণ ও যোগাযোগ করতে পারবেন, যা দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে ওয়ারবি পার্কারের সংস্করণটি তুলনামূলকভাবে সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হবে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি। অন্যদিকে জেন্টল মনস্টারের সংস্করণটি বেশি ফ্যাশননির্ভর ও আধুনিক স্টাইলের হবে, যা তরুণ ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে।
গুগল জানিয়েছে, এটি স্মার্টগ্লাসের প্রথম প্রজন্ম, তাই ভবিষ্যতে আরও উন্নত সংস্করণে ডিসপ্লে ও নতুন ফিচার যুক্ত করা হতে পারে।
কোম্পানিগুলো এখনো ডিভাইসটির দাম, পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন এবং নির্দিষ্ট উন্মোচনের তারিখ প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এটি নির্বাচিত কিছু বাজারে উন্মুক্ত করা হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাং ও গুগলের এই উদ্যোগ স্মার্টফোননির্ভর জীবনধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে সক্ষম হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



