বাস, ট্রেন বা গাড়িতে জানালার পাশের সিট সাধারণত ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তোলে। তবে সেই সিট যদি যানবাহনের চলার বিপরীত দিকে হয়, অনেকের ক্ষেত্রেই তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাবসহ যে সমস্যা দেখা দেয়, তাকে বলা হয় মোশন সিকনেস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হলো চোখ ও অন্তকর্ণের (ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ) মধ্যে সংকেতের অসামঞ্জস্য। উল্টো দিকে বসলে চোখ মনে করে আপনি একদিকে চলছেন, কিন্তু অন্তকর্ণ অন্যভাবে গতি অনুভব করে। এই দুই বিপরীত সংকেত মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যার ফলেই মাথা ঘোরা বা বমিভাব দেখা দেয়।
আরও একটি কারণ হলো পূর্বাভাসের অভাব। সোজা দিকে বসলে মস্তিষ্ক সামনে কী পরিবর্তন হতে পারে তা আগেই বুঝতে পারে, যেমন মোড় বা গতি পরিবর্তন। কিন্তু উল্টো দিকে বসলে সেই পূর্বাভাস পাওয়া যায় না, ফলে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা বাঁকে শরীর প্রস্তুত থাকতে পারে না, যা অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তায় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়। তবে কিছু সহজ উপায়ে মোশন সিকনেস কমানো সম্ভব। যেমন—দূরের স্থির কোনো জায়গার দিকে তাকানো, চোখ বন্ধ রাখা এবং মাথা স্থির রাখা। এতে মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি কিছুটা কমে।
গাড়ির মাঝামাঝি অংশে বসলে সাধারণত কম ঝাঁকুনি লাগে। পাশাপাশি গান শোনা বা মনোযোগ অন্যদিকে রাখলে অস্বস্তি কম অনুভূত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, ভ্রমণের সময় মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে চোখ ও মস্তিষ্কের সংকেতের অসামঞ্জস্য আরও বেড়ে যায়। সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাসই ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


