হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের অন্তরকে অশান্ত করে তোলে। হিংসুক ব্যক্তি কখনো প্রকৃত সুখ বা প্রশান্তি লাভ করতে পারে না। অন্যের কল্যাণে সে কষ্ট পায়, আর অন্যের বিপদে আনন্দ খোঁজে। ফলে তার হৃদয় ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে এবং সে নিজেই নিজের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসলামী পরিভাষায় হিংসা (হাসাদ) হলো—আল্লাহ তাআলা কাউকে যে নিয়ামত দান করেছেন, তা তার কাছ থেকে চলে যাক—এমন কামনা করা। হিংসুক ব্যক্তি শুধু অন্যের প্রাপ্তিতে কষ্টই পায় না, বরং সে চায় সেই নিয়ামত ধ্বংস হয়ে যাক। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষীদের মনোভাব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, **“যদি তোমাদের কোনো কল্যাণ স্পর্শ করে, তাতে তারা অসন্তুষ্ট হয়। আর যদি তোমাদের কোনো অকল্যাণ হয়, তাতে তারা আনন্দিত হয়।”** (সুরা আলে ইমরান: ১২০)
হিংসা এমন একটি রোগ, যা অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আগেই হিংসুকের নিজের মনকে গ্রাস করে। সে সবসময় অস্থিরতা, ক্ষোভ ও হতাশায় ভোগে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, **“বলে দাও, তোমরা তোমাদের রাগ নিয়ে মরো।”** (সুরা আলে ইমরান: ১১৯)
ইসলামের শিক্ষা হলো অন্যের কল্যাণ কামনা করা এবং নিজের জন্য যা পছন্দ করি, তা অন্য ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, **“তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ কোরো না; বরং আল্লাহর বান্দা হয়ে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।”** (তিরমিজি: ১৯৩৫)
ইতিহাসে বহু বড় বিপর্যয়ের পেছনে হিংসার ভূমিকা দেখা যায়। শয়তান আদম (আ.)-এর মর্যাদা দেখে হিংসায় আক্রান্ত হয়েছিল। কাবিল হিংসার বশবর্তী হয়ে তার ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল। নবী ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা হিংসার কারণে তাকে কূপে নিক্ষেপ করেছিল। এমনকি বহু আহলে কিতাবও বিদ্বেষ ও হিংসার কারণে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
হিংসা শুধু আত্মিক ক্ষতিই করে না, এটি মানুষের নেক আমলও ধ্বংস করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, **“হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে গ্রাস করে, যেমন আগুন লাকড়ি গ্রাস করে।”** (আবু দাউদ: ৪৯০৫)
হিংসা থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হলো আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা, বিশেষ করে সুরা ফালাক ও সুরা নাস নিয়মিত তিলাওয়াত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, **“এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”** (সুরা ফালাক: ৫)
এ ছাড়া অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাও হিংসা দূর করার কার্যকর উপায়।
মুসলমানের পরিচয় হলো সে মানুষের কল্যাণ কামনা করবে, বিদ্বেষ নয়; ভালোবাসা ছড়াবে, ঘৃণা নয়। তাই আমাদের উচিত অন্তরকে হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে চলা।
**আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অহংকার থেকে পবিত্র রাখুন। আমিন।**
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



