সাধারণত অসুস্থ হলে আমরা ওষুধের ওপরই নির্ভর করি। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কিছু ক্ষেত্রে এই ওষুধই শরীরে অ্যালার্জির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কখনো হালকা চুলকানি, আবার কখনো জীবনঝুঁকিপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

তাই ওষুধ সেবনের পর শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ওষুধজনিত অ্যালার্জি মূলত দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফল। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধকে শরীর ক্ষতিকর মনে করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, কিছু ব্যথানাশক ও খিঁচুনি প্রতিরোধক ওষুধে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়।
অ্যালার্জি সম্পর্কে সচেতনতার সময় এ বিষয়ে জানা জরুরি—কোন কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
সাধারণ লক্ষণ
অ্যালার্জির লক্ষণ হালকা কিংবা তীব্র—উভয়ই হতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, লালচে দাগ বা দানা ওঠা সাধারণ লক্ষণ। অনেক সময় চোখ, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।
গুরুতর লক্ষণ
কিছু ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট, গলা বন্ধ হয়ে আসা, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ জ্ঞান হারানোর মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে অ্যানাফাইল্যাক্সিস বলা হয়, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি ভাবা ঠিক নয়। অনেক ওষুধেই স্বাভাবিকভাবে বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরা দেখা যায়। কিন্তু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ত্বক ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তা গুরুতর আকার নিতে পারে।
ওষুধ গ্রহণের পর নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে আগে যদি কোনো ওষুধে অ্যালার্জির অভিজ্ঞতা থাকে, তবে নতুন ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসককে তা জানানো প্রয়োজন।
নিজে নিজে ওষুধ সেবনের অভ্যাস এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ না খাওয়াই উত্তম। সচেতনতাই এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


