বার্ধক্যের প্রকৃত ছাপ চেহারায় নয়, বরং মানুষের চলাফেরা ও পায়ের শক্তিতে প্রকাশ পায়—সম্প্রতি এমনই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহ পায়ের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকলেই তা প্রায় ১০ বছরের শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও দ্রুত ও মারাত্মক হয়, কারণ তাদের শরীরের ভারসাম্য ও আত্মবিশ্বাস অনেকাংশে পায়ের শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ত্বকের বলিরেখা বা চুল পাকা নয়, বরং পায়ের পেশির দুর্বলতাই দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিনেও উল্লেখ করা হয়েছে, শক্তিশালী পায়ের পেশি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম প্রধান সূচক।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টানা দুই সপ্তাহ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পায়ের পেশির প্রায় এক-চতুর্থাংশ শক্তি কমিয়ে দিতে পারে, যা শরীরকে কয়েক দশক পর্যন্ত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়। একবার পেশি দুর্বল হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
শরীরবিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের দেহের বেশিরভাগ ভার বহন করে পা, যেখানে বড় বড় হাড় ও শক্তিশালী জয়েন্ট মিলেই শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। পায়ের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন ও স্নায়ুর কার্যক্রমও সক্রিয় থাকে, যা পুরো শরীরের সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বার্ধক্যের প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে পা থেকেই শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পুরো শরীরে প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্নায়বিক সংকেত আদান-প্রদান ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ে হাড় ভাঙা ও অন্যান্য জটিল রোগের।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম এবং পায়ের পেশিকে সক্রিয় রাখা দীর্ঘ জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এমনকি বয়স্কদের জন্যও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শুরু করা কখনোই দেরি নয়। পা সচল থাকলেই শরীর ও জীবন দুটোই দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


