বার্ধক্য কেবল মুখের ভাঁজ বা চুল পাকার মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের চলাফেরা ও শারীরিক সক্ষমতার মাধ্যমেই বেশি প্রকাশ পায়। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মাত্র দুই সপ্তাহ পায়ের পেশি ব্যবহার না করেন, তাহলে তার পায়ের শক্তি প্রায় দশ বছর পিছিয়ে যেতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও বেশি মারাত্মক, কারণ তাদের আত্মবিশ্বাস ও ভারসাম্য অনেকাংশেই পায়ের শক্তির ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, সুস্থ বার্ধক্যের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে পায়ের যত্নে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেহারার পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে পায়ের পেশি সুস্থ রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ মেডিসিন-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ জীবন পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো শক্তিশালী পা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যে কোনো বয়সের মানুষ যদি টানা দুই সপ্তাহ নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে তার পায়ের পেশির প্রায় ২৫ শতাংশ শক্তি কমে যায়। এর ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়ে বয়স যেন হঠাৎ কয়েক দশক বেড়ে যায়। একবার পেশি দুর্বল হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
মানবদেহের গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, পা আমাদের শরীরের প্রধান ভর বহনকারী অংশ। শরীরের প্রায় অর্ধেক হাড় পায়ে অবস্থিত এবং এগুলোই শরীরের ওজনের বড় অংশ বহন করে। শক্তিশালী পেশি, মজবুত হাড় ও নমনীয় জয়েন্ট একত্রে পাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে পরিণত করে, যা শরীরকে সচল রাখে।
পা শুধু চলাচলের জন্যই নয়, বরং শরীরের প্রধান গতিশীল কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। শরীরের বড় অংশের স্নায়ু, রক্তনালী ও রক্তপ্রবাহ পায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই পায়ের পেশি শক্তিশালী থাকলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং হৃদযন্ত্রও সুস্থ থাকে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বার্ধক্যের প্রভাব প্রথমে পা থেকেই শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক থেকে পায়ে সংকেত যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বয়স্কদের মধ্যে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা থেকে গুরুতর জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় ১৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ এক বছরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। তাই পায়ের যত্ন নেওয়া শুধু চলাফেরার জন্য নয়, বরং জীবন রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
পায়ের শক্তি ধরে রাখতে নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। ৬০ বছর বয়সের পরেও এই অভ্যাস শুরু করা সম্ভব এবং তা উপকারী। এটি সাময়িক কিছু নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আজীবন অনুসরণ করার মতো একটি অভ্যাস। কারণ পা সচল থাকলে তবেই শরীরের প্রাণশক্তি দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


