পজিটিভ প্যারেন্টিং বলতে বোঝায় সন্তানের সঙ্গে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করা। এতে সন্তানকে শাসন করার বদলে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে তারা বয়স অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে পারে। এটি পরিবারে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং মা–বাবা বা অভিভাবক সবাইকে একসঙ্গে দল হিসেবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেয়। এর মাধ্যমে শিশুরা পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের শিক্ষা পায়।

পজিটিভ প্যারেন্টিং শিশুকে নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী এবং অভিভাবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অনুভব করতে সাহায্য করে। এতে সন্তানের মানসিক বিকাশ, স্বাধীনতা এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
পজিটিভ প্যারেন্টিংয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—
১. শারীরিক শাস্তি পরিহার করা
শিশুকে আঘাত করা বা শারীরিক শাস্তি দেওয়া ভয়, বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি করে। এর পরিবর্তে শান্তভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিয়ম শেখানো উচিত।
২. ভয় দেখানো নয়, বোঝানো
ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসে না। সন্তানের আচরণের ফলাফল সম্পর্কে ধৈর্যসহকারে বোঝানো বেশি কার্যকর।
৩. লিঙ্গভিত্তিক ধারণা এড়িয়ে চলা
“ছেলেরা কাঁদে না” বা “এটা মেয়েদের কাজ নয়”—এ ধরনের কথা বলা উচিত নয়। বরং সবাই সমানভাবে সক্ষম ও দায়িত্বশীল—এমন ধারণা দেওয়া দরকার।
৪. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ
শিশুর সঙ্গে বাস্তব যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফোন বা টিভির বদলে তাদের সঙ্গে কথা বলা, খেলা করা ও সময় কাটানো উচিত।
৫. সময় দিয়ে মনোযোগ দেওয়া
দিনে অল্প সময় হলেও সন্তানের সঙ্গে আন্তরিকভাবে সময় কাটানো তাদের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।
৬. দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন তৈরি করা
নিয়মিত ভালোবাসা প্রকাশ, কথা বলা ও শারীরিক স্নেহ শিশুকে নিরাপদ অনুভূতি দেয়।
৭. প্রতিবন্ধী শিশুর প্রতি ইতিবাচক আচরণ
প্রতিবন্ধী শিশুকেও সমান ভালোবাসা, সম্মান ও সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
৮. ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা
শিশুরা বাবা-মাকে দেখে শেখে। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া জরুরি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


