সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় জুমার নামাজের আগে বয়ান চলাকালে এক মসজিদের ইমামকে গালাগালি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সুজাউদ্দিন মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বাইতুল আকসা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. খোরশেদ আলম।
অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে মহাদেবপুর গ্রামের বাইতুল আকসা জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে বয়ান চলাকালে সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি মসজিদের ইমামকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও মারধর করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ৯টার দিকে সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল কয়েকজন রাজমিস্ত্রি ও ১০-১২ জন লোক নিয়ে মসজিদের দক্ষিণ পাশের ছাদের কার্নিশ ভেঙে ফেলেন।
মসজিদ কমিটির দাবি, কমিটির কাউকে না জানিয়েই এসব কাজ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের ওযুখানার নির্মাণকাজেও বাধা দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। এ সময় কমিটির সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।
অভিযোগকারী খোরশেদ আলম বলেন, সরকারি জমি ও মসজিদের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন সুজাউদ্দিন বুলবুল। তিনি হঠাৎ করে একটি পকেট কমিটি ঘোষণা করেন এবং ইমামকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা চালান। শুক্রবার জুমার বয়ানের সময় ইমামের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটান।
মারধরের শিকার মসজিদের ইমাম মুফতি খন্দকার আজহারুল ইসলাম বলেন, অ্যাডভোকেট সুজাউদ্দিন বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ব্যক্তিগত মার্কেট নির্মাণের জন্য তিনি মসজিদের কার্নিশ ভেঙে ফেলেছেন। এ উদ্দেশ্যে একটি পকেট কমিটি গঠন করে মসজিদের সভাপতিসহ তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, “জুমার নামাজের বয়ানের সময় তিনি কয়েকজন লোক নিয়ে এসে আমাকে বয়ান করতে নিষেধ করেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বয়ান বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। পরে চর-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে। আল্লাহর ঘর মসজিদও তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। আমি প্রশাসন ও সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুজাউদ্দিন আহাম্মেদ বুলবুল বলেন, “আমি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। মসজিদের ইমামকে চাকরিতে না রাখার বিষয়ে এক মাস আগেই মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এরপরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। বয়ানের সময় আমি কথা বলতে চাইলে তিনি মাইকের মাউথপিস দেননি। এ নিয়ে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধর বা হেনস্থার কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ওই মসজিদের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুক্রবার সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, মারামারির নয়। এটা কোন ধর্তব্য অপরাধ নয়, এটা অধর্তব্য বিষয়। এটা নিয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেলে প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



