Advertisement
সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ: কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতিবছর জেলায় কামার পল্লীগুলোতে টুং-টাং শব্দে দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি তৈরির কাজ চলতো দিন-রাত। চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে পাল্টে দিয়েছে কামার পল্লীর ব্যস্ততা।

গত এক বছর ধরে করোনার কারণে কোরবানির ঈদকে ঘিরে কামার পল্লীতে তেমন ব্যস্ততা নেই। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এ পেশার সাথে জড়িতরা।

জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ও ধানকোড়া ইউনিয়ন, সদর উপজেলার গাজী নবগ্রাম ও চান্দিরচর, হরিরামপুরের ঝিটকা, সিংগাইরের জামশা ও সাহরাইল এবং দৌলতপুরের দৌলতপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার এসব কামার পল্লীতে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চলতো বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কাজ। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর এবং এ বছর কামারপল্লীর এসব সরঞ্জাম তৈরিতে এখন আর তেমন ব্যস্ততা নেই। যার ফলে অলস সময় পার করছে কামাররা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, এসব কামার পল্লীর প্রায় সব কারখানা বন্ধ। করোনা সংকটের কারণে তৈরিকৃত সরঞ্জাম বিক্রি না হওয়ায় হতাশায় ভুগছে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা। আগের মত ক্রেতা না থাকায় কামার পল্লীর এসব শ্রমিকরা ঝিমিয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে।

কামাররা জানান, এক সময় তাদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। চাইনিজ ছুরিসহ নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী স্বস্তায় মিলছে দোকানে। ফলে তাদের তৈরি সামগ্রীর প্রতি মানুষ আকর্ষণ হারাচ্ছে। অপরদিকে, গতবছর থেকে দেশে করোনার কারণে কোরবানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় কোরবানির জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামের চাহিদা অনেক কমে গেছে। আগের মত এখন আর অর্ডার ও ক্রেতা না থাকায় বেশিরভাগ সময়ই অলসভাবে কাটাতে হচ্ছে। ফলে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার চান্দিরচর এলাকার কামার পল্লীর খোকন বলেন, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ দিয়ে সারাবছরই লোকসানে থাকতে হয়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। কোরবানির আগের মাস থেকেই আমাদের ব্যবসা চাঙ্গা হতো। কিন্তু গতবছরের মত এ বছরও সেই আশায় গুঁড়েবালি।

সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কৈট্টা বাজারের কামার হরিপদ বলেন, সাধারণত ঈদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, ধামা তৈরি করা শুরু হতো। বিক্রি শুরু হতো কোরবানির এক সপ্তাহ আগে থেকে। অতিরিক্ত কাজের চাপের জন্য নিয়োগ দেয়া হতো অতিরিক্ত শ্রমিক। কিন্তু এ বছর মোটেও কাজ পাওয়া যায়নি।

কামারশালাগুলোতে দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি মানভেদে বিক্রি হয়। নতুন দা ২৫০ থেকে ৪’শ টাকা, ছুরি ১২০ থেকে ২’শ টাকা, বটি ৩৫০ থেকে ৬’শ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ২৫০ থেকে ৫’শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। দা শাণ করাতে ২০ টাকা, ছুরি ১৫ টাকা, বটি ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন কামাররা।

আর স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা, সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামটা একটু বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণ গুলোর দাম তুলনা মূলকভাবে কম।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.