পবিত্র মহররম মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হলো আশুরা। আরবি ‘আশারা’ থেকে আশুরা শব্দটি এসেছে। এরমধ্যে আশারা অর্থ দশ, আর আশুরা অর্থ দশম। দিনটি ঐতিহাসিক নানা ঘটনাবলির সাক্ষ্যও বহন করে।

পবিত্র আশুরার দিনে আদি পিতা আদম (আ.) কে সৃষ্টি ছাড়াও তাকে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়। এই দিনেই হযরত নূহ (আ.) এর নৌযানের যাত্রা শুরু হয় ও মহাপ্লাবন শেষে ঈমানদারদের নিয়ে তিনি নৌকা থেকে নামেন। আবার আশুরার দিনেই কারবালার বিয়োগান্তরের মর্মান্তিক ঘটনার অবতারণা হয়।
এজন্য আশুরার দিন ছাড়াও একদিন আগে বা পরে মিলিয়ে দু’টি নফল রোজা রাখার বিধান রয়েছে। খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) ও আশুরার রোজা রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমজানের পর আশুরার দিনের সাওমের উপরে অন্য দিনের সাওমকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৮০)
হাজিদের আমল ও করণীয়
তবে অনেকে মনে করেন আশুরার রোজা একটি। এজন্য অনেকে শুধু আশুরার দিনেই রোজা রাখেন, যা উচিত নয়। কারণ, অতীতে হযরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে ইহুদিদের মুক্তি দেয়া এবং এই দিনে লোহিত সাগরে ফেরাউনের সলিলসমাধি হওয়ায় আশুরার দিনে (১০ মহররম) রোজা রাখত। তাই ইহুদিদের সাদৃশ্য এড়াতে নবীজি (সা.) অতিরিক্ত আরও একদিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার রাসুল (সা.) যখন আশুরার দিন সিয়াম (রোজা) পালন করেন এবং লোকদের সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) ইয়াহুদ এবং নাসারা এই দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। তখন এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর আমরা ৯ তারিখেও সিয়াম (রোজা) পালন করব। হাদিস বর্ণনাকারী আরও বলেন, তবে পরের বছর আসার আগেই রাসুল (সা.) এর ইন্তেকাল হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৬)
এ ক্ষেত্রে রমজানের পর মহররম মাসের রোজা তথা আশুরার রোজা যে সর্বোত্তম সে বিষয়েও বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরজ নামাজসমূহের পর কোন সালাত এবং রমজানের রোজার পর কোন রোজা সর্বোত্তম? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, ফরজ সালাতসমূহের পর গভীর রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) সর্বোত্তম এবং রমজানের রোজার পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা সর্বোত্তম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬২৭)
অন্যদিকে ফজিলতপূর্ণ মহররম মাসে নফল রোজা রাখার বিশেষ সওয়াবও রয়েছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর কাছে সাওম (রোজা) নিয়ে প্রশ্নের একপর্যায়ে নবীজি (সা.) বলেন, আশুরার সাওম (রোজা) সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১৭)
এ ক্ষেত্রে গত ১৬ জুন সন্ধ্যায় দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ফলে ১৭ জুন (বুধবার) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হয়েছে এবং ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরা পালিত হবে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার)। সুতরাং, কেউ আশুরার রোজা রাখতে চাইলে সুন্নত অনুযায়ী আগামী ৯ ও ১০ মহররম (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) অথবা ১০ ও ১১ মহররম (শুক্র ও শনিবার) রোজা রাখতে পারবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



