Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : পাকিস্তান থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, পাপুয়া নিউগিনিসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ করেন। সর্বশেষ তুরস্কের আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সিরিয়াতেও প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা নব্য জেএমবি এই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তার নাম মিনহাজ হোসেন (৩৮)। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও মোবাইলের মাধ্যমে সংগঠনের নানান কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, সিরিয়া থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ঢাকায় ঢুকেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তার খোঁজ চলছিল। এরপর শনিবার রাতে রাজধানীর দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনহাজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন হায়াত তাহরীর আল শাম (এইচটিএস)-এর সদস্যদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাকে রিমাণ্ডে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তার মিনহাজের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মিনহাজ হোসেন ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সিটিটিসিকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

জন্ম সূত্রে বাংলাদেশি হলেও মিনহাজ বেড়ে উঠেছেন পাকিস্তানে জানিয়ে সিটিটিসি সূত্র জানায়, মিনহাজের মা পাকিস্তানে চাকরি করতেন। তার বাবা থাকতেন ঢাকার মালিবাগে। পরে মায়ের সঙ্গে তিনি পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে চলে যান। মিনহাজ মুলত লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে স্নাতক পাস করেছেন। এরপর তিনি স্নাতকোত্তর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটিতে। ব্রুনেই দারুসসালামের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন তিনি।

সেখানে পিএইচডি শেষে তিনি পরে বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, পাপুয়া নিউগিনিসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ করে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ফেরেন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব বিজনেস লিডারশিপের একজন ফেল। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা তিন।

সিটিটিটিসি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মিনহাজ হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশ নব্য জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্য। মিনহাজ উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়ে সিরিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দলটির আমন্ত্রণে সিরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

এরপর তিনি অনেক দিনি তুরস্কে অবস্থান করেন এবং তারপর সিরিয়ায় চলে যান। সেখানে গিয়ে এইচটিএস নেতাদের সঙ্গে করতে ব্যর্থ হয়ে মিনহাজ মাস তিনেক পর ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর ঢাকা থেকে খুলনায় চলে যান তিনি। সেখানে নব্য জেএমবির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। তবে মিনহাজ সম্পর্কে তার পরিবার কোনো কথা বলতে চাননি।

সিটিটিসি সূত্রে আরো জানা যায়, গ্রেপ্তার মিনহাজ উগ্রবাদী ভাবাদর্শে দীতি হয়ে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে। নব্য জেএমবি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা চালান তিনি। বাংলাদেশে কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ঢাকাকে বেছে নিয়েছিলেন মিনহাজ ও তাঁর সঙ্গীরা। করোনার সময় জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে এবং তিনি দেশ ছাড়েন তিনি।

এইচটিএস সম্পর্কে জানা গেছে, এটি অপেক্ষাকৃত নতুন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী। এর উত্থান ২০১৭ সালে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারকে উত্খাতে এই গোষ্ঠী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.