
চালককে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী আরও লেখেন, ‘ড্রাইভারের নাম উবারে রাশেদুল দেখায়। আর ট্রু কলারে হাসান। মোবাইল নাম্বার: +৮৮০১৭২৯৪২১৭৭৬। উবারের মতো অ্যাপস নিয়েও যদি নিশ্চিন্তে চলাফেরা না করা যায় তাহলে কী করা উচিত?
শেষ পর্যন্ত গত বুধবার রাতে সেই উবার চালক রাশেদুল হাসানকে গ্রিনরোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই তরুণী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
যৌন নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী বলেন, ‘চালককে বারবার বলছিলাম, প্লিজ গাড়ির ভেতরের লাইট অন করুন। সে কোনোভাবে এটা শুনছিল না। সিটবেল্ট ও দরজা লক করে দেয়। পরে সে আমার পায়ের উপর আরও ২/৩ বার হাত ফেলেছে। তখন রেগে গিয়েই গাড়ি থামাতে বলেছিলাম। তারপর সে আমার হাত ধরে বলে, আমাকে আপনি খারাপ মনে করছেন কেন। আসলে আমি পরিস্থিতি বুঝাতে পারব না।’
তরুণী আরও বলেন, ‘আমার গায়ে হাত দিয়েছে সে। কতটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বুঝাতে পারব না। অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেছে চালক। আমি কোনোভাবেই গাড়ি থেকে নামতে পারছিলাম না। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আবার ভয়ে ৯৯৯-এ কলও করতে পারিনি। কারণ চালকের সামনে পরিস্থিতি বর্ণনা করতে হবে। তখন যদি সে আরও বড় ক্ষতি করে ফেলে। উবার থেকে নামার পর থানায় গিয়ে প্রথমে জিডি করি। পরে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছি।’
তরুণীর ভাষ্য, ‘উবারের এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে চালকের সামনে কল না করলেও কেউ তাদের বিপদ সংকেত জানাতে পারেন। তখন উবার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীকে সেভ করবে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা যেভাবে আমার পাশে থেকেছে এতে কৃতজ্ঞ আমি। শুধু জিডি করলে ওর উপযুক্ত শাস্তি হতো না, তাই পরে মামলা দায়ের করেছি।’
পুলিশের মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাঈনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রথমে উবার চালক দাবি করেছিল, তরুণীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। পরে স্বীকার করে কুমতলবে ওই যাত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেছেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



