
পরবর্তী সময়ে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হিজড়া দলে যোগ দেন। আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে চেহারার পাশাপাশি নিজের নামও পাল্টে ফেলেন সুমন। কিন্তু তাতেও রক্ষা হলো না, অবশেষে পুলিশের জালে আটকে পড়েছেন এই মা’দক ব্যবসায়ী।
রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত বই মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে সুমনকে আটক করে নিউ মার্কেট থানা পুলিশের একটি দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নিউ মার্কেট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনসার মাহমুদ (আলী)।
আটককৃত আসামি সুমন নিউ মার্কেট ১ নং গেট এলাকার (ভাসমান) সহিদের পুত্র। হিজড়া দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি বৃষ্টি হিজড়া পরিচয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থাকতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে বিভাগীয় রেইডিং পার্টি নিয়ে নিউ মার্কেট ১ নং গেটের সামনে ফুটপাতের উপর আসামি সুমনকে ঘেরাও করে দেহ তল্লাশী করা হয়। এসময় তার প্যান্টের প্যাকেট থেকে ১০০ গ্রাম গাঁ’জা উদ্ধারসহ সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে হিজড়া দলে যোগ দিয়ে আত্মগোপনের চলে যান।
উক্ত মা’দক মামলায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আদালত আসামি সুমনকে ৬ মাসের সাজা ও ৫০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। রায়ের পর সে ২০ মাস ছদ্মবেশে ছিল। তবে অবশেষে দীর্ঘদিন পর পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মা’দক ব্যবসায়ী সুমন।
সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিউ মার্কেট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনসার মাহমুদ (আলী) বলেন, দুই বছর আগে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমি সুমনকে ধরতে মাঠে নামি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি আসামি বৃষ্টি হিজড়া সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরে তাদের দলনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হই বৃষ্টি হিজড়াই সেই মা’দক মামলার আসামি।
তিনি বলেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য সুমন হিজড়া দলে ঘুরে বেড়াতেন। দেড় বছর আগে হাইকোর্টের সামনে তাকে আটক করতে গেলে জামা-কাপড় খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল।
জানতে চাইলে নিউ মার্কেট থানার ওসি ওপারেশন মো: শের আলম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল রাতে মা’দক মামলার আসামি সুমনকে আটক করে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



