কিছু আমল বা ইবাদত মানুষের সারা দিনের গতিপথ নির্ধারণ করে। তেমনই এক মহিমান্বিত ইবাদত ফজরের নামাজ, যা শুধু একটি ফরজ সালাত নয়; বরং বরকত, নিরাপত্তা, নুর ও সফলতার দরজা। ফজরের জামাতে শরিক হওয়ার মাধ্যমে বান্দা তার সারা দিনের কল্যাণের দরজা খোলে। অন্য রকম আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চয় করে।

নামাজ

Advertisement

কেননা এই নামাজে মহান আল্লাহর ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং ফজরের সময় কোরআন পাঠে যত্নবান থাকো। স্মরণ রেখো, ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৮)

বেশির ভাগ মুফাসসির বলেন, ফজরের নামাজে যে তিলাওয়াত করা হয়, তাতে ফেরেশতাদের দল উপস্থিত থাকে।

বিভিন্ন হাদিস দ্বারা জানা যায়, মানুষের তত্ত্বাবধানের কাজে যেসব ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন, তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালাক্রমে আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। একদল আসে ফজরের সময়। তারা দিনের বেলা দায়িত্ব পালন করে। আরেক দল আসেন আসরের সময়।

তারা রাতের বেলা দায়িত্ব পালন করে। প্রথম দল ফজরের নামাজে এসে শরিক হয় এবং কোরআন মাজিদের তিলাওয়াত শোনে। আয়াতে সে কথাই বলা হয়েছে। নিম্নে ফজরের নামাজের কিছু বিশেষ উপকারিতা তুলে ধরা হলো-

আল্লাহর জিম্মায় থাকা : হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩৮০)।

অতএব, যে ফজর পড়ে, সে আল্লাহর সুরক্ষা ও তত্ত্বাবধানে থাকে।

জাহান্নাম থেকে মুক্তি : আবু বকর ইবনে উমারাহ ইবনে রুআয়বাহ তার পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের নামাজ অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩২২)

অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম হতে পারে।

জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম : মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা সময়ের নামাজ (ফজর ও এশা) আদায় করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩২৪)

ফেরেশতাদের সাক্ষ্য : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ফেরেশতারা পালা বদল করে তোমাদের মধ্যে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের নামাজে উভয় দল একত্র হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্যে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যায়। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে?’ অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। উত্তরে তাঁরা বলেন, ‘আমরা তাদের নামাজে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজ আদায়রত অবস্থায় ছিল।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫৫)

কিয়ামতের দিনে আলো : নবী (সা.) বলেছেন, ‘যারা অন্ধকার রাতে মসজিদে যাতায়াত করে, তাদের কিয়ামতের দিনে পূর্ণ নুরের সুসংবাদ দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৬১)

রাত জেগে ইবাদতের সওয়াব : জামাতে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা পুরো রাত ইবাদতের সমান সওয়াব দেয়। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবদুর রহমান ইবনে আবু আমরাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, একদিন মাগরিবের নামাজের পর উসমান ইবনে আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘ভাতিজা! আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)

দৃঢ় ঈমানের পরিচয় : ফজরের নামাজ জামাতে গিয়ে পড়া দৃঢ় ঈমানের পরিচয় বহন করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ভারী (কষ্টকর) নামাজ হলো এশা ও ফজর।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৯৭)

এই নামাজের আরো বহু ফজিলত রয়েছে। হাদিসে ফজরের দুই রাকাত নামাজকে দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে, তার চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। তা ছাড়া এই নামাজ মানুষকে উদ্যমী করে এবং মানসিক শান্তি দেয়; শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত করে।

অতএব, যারা মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের আশা করে, তাদের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুরুত্ব সহকারে আদায় করা, বিশেষ করে ফজরের নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.